ঢাকা ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

যমুনার পানি বিপৎসীমার ২৪ সেন্টিমিটার ওপরে

জামালপুর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৬:০৫:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  • / ৪৫৪ বার পড়া হয়েছে
৭১ নিউজ বিডির সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

উজানের ঢলে যমুনার পানি বেড়ে আজ রোববার সকাল থেকে বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে কমতে শুরু করেছে ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার ও তিস্তাসহ বেশ কয়েকটি নদ-নদীর পানি।

জামালপুর জেলা প্রশাসক মো. ইমরান আহমেদ জানান, জামালপুরে গত ১২ ঘণ্টায় যমুনার পানি বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। তবে পানিবন্দী দেওয়ানগঞ্জ ও ইসলামপুর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের প্রায় ৪৩ হাজার মানুষ। নতুন করে তলিয়েছে ৯০০ হেক্টর জমির রোপা আমন। বন্যার কারণে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ইসলামপুর উপজেলার ২৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

এদিকে কুড়িগ্রামে ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার ও তিস্তাসহ সব নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে ব্রহ্মপুত্রের পানি নুনখাওয়া ও চিলমারী পয়েন্টে এখনও বিপৎসীমার কাছাকাছি। শতাধিক চরের প্রায় ২০ হাজার মানুষ এখনও পানিবন্দী। তলিয়ে আছে প্রায় ৭ হাজার হেক্টর আমনসহ অন্যান্য ফসলের খেত।

গতকাল (২ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে পাওয়া সবশেষ তথ্যমতে, জেলার দুই উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের ৯৮৩০ টি পরিবারের ৪২ হাজার ৪২০ জন মানুষ পানিবন্দী রয়েছে।

এছাড়াও দেওয়ানগঞ্জ ও ইসলামপুর উপজেলার দুইটি আশ্রয়ন কেন্দ্রে ১৪১টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। অপরদিকে এ জেলায় ২২শ ২৩ হেক্টর রোপা আমনের খেত বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। তার মধ্যে ১২শ ৫৬ হেক্টর রোপা আমন সম্পূর্ণরূপে ও ৯শ ৬৭ হেক্টর রোপা আমন আংশিকভাবে নিমজ্জিত হয়েছে।

গতকাল দুপুরে ইসলামপুর উপজেলার চিনাডুলি ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা যায় বানভাসীদের করুণ অবস্থা। এলাকাগুলো নদী তীরবর্তী হওয়ায় বন্যার পানি প্রবেশ করেছে প্রতিটি ঘরে। ঘরে থাকতে না পারে বসত ভিটা ছেড়ে অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন স্বজনদের বাড়িতে ও উঁচু সড়কে।

চিনাডুলি ইউনিয়ন পরিষদের পেছনের বাসিন্দা হাসিনা বেগম বলেন, ”বন্যা আসলে আমরাই আগে ডুবি। আঙ্গর জ্বালা হয়ছে বেশি। দিনের বেলা ঘর-বাড়ির আশে পাশেই থাকি আর রাতের বেলা দূরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে থাকি। ছেলেরা রাত জাইগে বাড়ি পাহারা দেই। সরকার যে ত্রান দিছে ওইটা দিয়ে কিছুই হয় না। ওইটা দিয়ে কয়দিন আর চলা যায়।”

একই জায়গার বাসিন্দা সোহেল মিয়া বলেন, “আমাদের এলাকায় অনেক সমস্যা। প্রতি বছরই আমরা বন্যায় কষ্ট করি। আমরা ত্রান চায় না। আমরা বাধ চাই। এই দিকে বাধ দিলে আমাদের কষ্ট কমবো। বন্যার পানির কারনে কোনো জায়গায় যাইতে পারি না। কিছু করতে পারি না। হাতে কাজ কামও নাই। খুব কষ্টের মধ্যে থাকি আমরা।”

নিউজটি শেয়ার করুন

যমুনার পানি বিপৎসীমার ২৪ সেন্টিমিটার ওপরে

আপডেট সময় : ০৬:০৫:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩

উজানের ঢলে যমুনার পানি বেড়ে আজ রোববার সকাল থেকে বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে কমতে শুরু করেছে ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার ও তিস্তাসহ বেশ কয়েকটি নদ-নদীর পানি।

জামালপুর জেলা প্রশাসক মো. ইমরান আহমেদ জানান, জামালপুরে গত ১২ ঘণ্টায় যমুনার পানি বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। তবে পানিবন্দী দেওয়ানগঞ্জ ও ইসলামপুর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের প্রায় ৪৩ হাজার মানুষ। নতুন করে তলিয়েছে ৯০০ হেক্টর জমির রোপা আমন। বন্যার কারণে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ইসলামপুর উপজেলার ২৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

এদিকে কুড়িগ্রামে ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার ও তিস্তাসহ সব নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে ব্রহ্মপুত্রের পানি নুনখাওয়া ও চিলমারী পয়েন্টে এখনও বিপৎসীমার কাছাকাছি। শতাধিক চরের প্রায় ২০ হাজার মানুষ এখনও পানিবন্দী। তলিয়ে আছে প্রায় ৭ হাজার হেক্টর আমনসহ অন্যান্য ফসলের খেত।

গতকাল (২ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে পাওয়া সবশেষ তথ্যমতে, জেলার দুই উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের ৯৮৩০ টি পরিবারের ৪২ হাজার ৪২০ জন মানুষ পানিবন্দী রয়েছে।

এছাড়াও দেওয়ানগঞ্জ ও ইসলামপুর উপজেলার দুইটি আশ্রয়ন কেন্দ্রে ১৪১টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। অপরদিকে এ জেলায় ২২শ ২৩ হেক্টর রোপা আমনের খেত বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। তার মধ্যে ১২শ ৫৬ হেক্টর রোপা আমন সম্পূর্ণরূপে ও ৯শ ৬৭ হেক্টর রোপা আমন আংশিকভাবে নিমজ্জিত হয়েছে।

গতকাল দুপুরে ইসলামপুর উপজেলার চিনাডুলি ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা যায় বানভাসীদের করুণ অবস্থা। এলাকাগুলো নদী তীরবর্তী হওয়ায় বন্যার পানি প্রবেশ করেছে প্রতিটি ঘরে। ঘরে থাকতে না পারে বসত ভিটা ছেড়ে অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন স্বজনদের বাড়িতে ও উঁচু সড়কে।

চিনাডুলি ইউনিয়ন পরিষদের পেছনের বাসিন্দা হাসিনা বেগম বলেন, ”বন্যা আসলে আমরাই আগে ডুবি। আঙ্গর জ্বালা হয়ছে বেশি। দিনের বেলা ঘর-বাড়ির আশে পাশেই থাকি আর রাতের বেলা দূরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে থাকি। ছেলেরা রাত জাইগে বাড়ি পাহারা দেই। সরকার যে ত্রান দিছে ওইটা দিয়ে কিছুই হয় না। ওইটা দিয়ে কয়দিন আর চলা যায়।”

একই জায়গার বাসিন্দা সোহেল মিয়া বলেন, “আমাদের এলাকায় অনেক সমস্যা। প্রতি বছরই আমরা বন্যায় কষ্ট করি। আমরা ত্রান চায় না। আমরা বাধ চাই। এই দিকে বাধ দিলে আমাদের কষ্ট কমবো। বন্যার পানির কারনে কোনো জায়গায় যাইতে পারি না। কিছু করতে পারি না। হাতে কাজ কামও নাই। খুব কষ্টের মধ্যে থাকি আমরা।”