ঢাকা ০১:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

শর্ত পূরণ না হলে শস্য চুক্তিতে ফিরবে না রাশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৪:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  • / ৪৪৪ বার পড়া হয়েছে
৭১ নিউজ বিডির সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শর্ত পূরণ হয়নি এমন বক্তব্য দিয়েই কৃষ্ণ সাগর দিয়ে ইউক্রেনীয় শস্য চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায় রাশিয়া। এই চুক্তির অন্যতম মধ্যস্থতাকারী ছিল তুরস্ক। নতুন করে এই চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য মস্কো সফরে গিয়েছিলেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। করেছিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকও। তবে, এতে কোনো ফল এলো না। রাশিয়ার সাফ বার্তা, কৃষিপণ্য রপ্তানিতে পশ্চিমারা শর্ত পূরণ করলেই চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হবে। খবর আল-জাজিরার।

ইউক্রেনে আগ্রাসন চালানোর পাঁচ মাস পরে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে শস্য চুক্তি হয়। গত জুলাই এই চুক্তির সময়সীমা শেষ হয়। শর্ত পূরণ হয়নি এমন কথায় চুক্তি নবায়ন বাতিল করে রাশিয়া। নিজস্ব রপ্তানিতে এই চুক্তি বাধা দিচ্ছে বলে ওই সময় জানিয়েছিলেন পুতিন।

নতুন করে চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) কৃষ্ণ সাগরের তীরবর্তী রুশ শহর সোচিতে বৈঠকে বসেন পুতিন-এরদোয়ান। আশা ছিল, বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা চুক্তিটিকে পুনরুজ্জীবিত হবে। তবে, বৈঠকের পরেই পুতিনের থেকে এই বক্তব্য এলো।

গত জুলাইয়ে শর্ত পূরণ না হওয়ার যেসব কথা পুতিন বলেছিলেন, সেসব কথার ফের পুনরাবৃত্তি হয়েছে। জুলাইয়ে অভিযোগ করে পুতিন বলেছিলেন, ‘কৃষ্ণ সাগর চুক্তি রাশিয়ার খাদ্য ও সার রপ্তানির প্রতিবন্ধকতা দূর করতে পারেনি। যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তা পূরণ হয়নি। শিপিং ও বিমার ওপর বিধিনিষেধ আমাদের কৃষি বাণিজ্যকে বাধাগ্রস্ত করেছে।’ যদিও গত বছর চুক্তির পরে রেকর্ড পরিমাণ গম রপ্তানি করেছিল মস্কো।

আগের অভিযোগগুলোকে পুনরাবৃত্তি করে পুতিন সোমবার বলেন, ‘কৃষ্ণ সাগরের করিডোর সামরিক উদ্দেশে ব্যবহার করা উচিত নয়। যদি প্রতিশ্রুতিগুলোকে সম্মান করা হয়, তবে রাশিয়া কিছু দিনের মধ্যে চুক্তিতে ফিরে আসতে পারে।

শিগগিরই চুক্তির একটি অগ্রগতি আসতে পারে এমন আশা প্রকাশ করে এরদোয়ান বলেন, ‘তুরস্ক ও জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া চুক্তিটি ফের চালু করতে আমরা একটি নতুন প্যাকেজ আনবো। ত্রুটি-বিচ্যুতি দূর করে এ উদ্যোগ অব্যাহত রাখা উচিত।’

এদিকে, রাশিয়ার অভিযোগগুলোকে অস্বীকার করছে মস্কোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া দেশগুলো। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলছে, আমাদের নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার শস্য ও সার রপ্তানিতে কোনো প্রভাব ফেলছে না। তাদের অভিযোগের কোনো যৌক্তিকতা নেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চুক্তিটি নতুন করে না করা হলে এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে আফ্রিকার দেশগুলোর ওপর। কারণ, ওইসব দেশ রাশিয়া ও ইউক্রেনের শস্যের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তবে, আফ্রিকার দেশগুলোর সমস্যা লাঘবের কথা জানান পুতিন। সোমবার রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘চলতি সপ্তাহেই আফ্রিকার ছয় দেশে বিনামূল্যে শস্য পাঠাবো আমরা।’ রাশিয়ার এই শীর্ষ নেতা অভিযোগ করে বলেন, ‘কৃষ্ণ সাগর চুক্তির মাধ্যমে রপ্তানি করা শস্যের একটি বড় অংশ দরিদ্র দেশগুলোর পরিবর্তে পশ্চিমে চলে গেছে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

শর্ত পূরণ না হলে শস্য চুক্তিতে ফিরবে না রাশিয়া

আপডেট সময় : ০৭:৪৪:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩

শর্ত পূরণ হয়নি এমন বক্তব্য দিয়েই কৃষ্ণ সাগর দিয়ে ইউক্রেনীয় শস্য চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায় রাশিয়া। এই চুক্তির অন্যতম মধ্যস্থতাকারী ছিল তুরস্ক। নতুন করে এই চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য মস্কো সফরে গিয়েছিলেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। করেছিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকও। তবে, এতে কোনো ফল এলো না। রাশিয়ার সাফ বার্তা, কৃষিপণ্য রপ্তানিতে পশ্চিমারা শর্ত পূরণ করলেই চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হবে। খবর আল-জাজিরার।

ইউক্রেনে আগ্রাসন চালানোর পাঁচ মাস পরে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে শস্য চুক্তি হয়। গত জুলাই এই চুক্তির সময়সীমা শেষ হয়। শর্ত পূরণ হয়নি এমন কথায় চুক্তি নবায়ন বাতিল করে রাশিয়া। নিজস্ব রপ্তানিতে এই চুক্তি বাধা দিচ্ছে বলে ওই সময় জানিয়েছিলেন পুতিন।

নতুন করে চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) কৃষ্ণ সাগরের তীরবর্তী রুশ শহর সোচিতে বৈঠকে বসেন পুতিন-এরদোয়ান। আশা ছিল, বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা চুক্তিটিকে পুনরুজ্জীবিত হবে। তবে, বৈঠকের পরেই পুতিনের থেকে এই বক্তব্য এলো।

গত জুলাইয়ে শর্ত পূরণ না হওয়ার যেসব কথা পুতিন বলেছিলেন, সেসব কথার ফের পুনরাবৃত্তি হয়েছে। জুলাইয়ে অভিযোগ করে পুতিন বলেছিলেন, ‘কৃষ্ণ সাগর চুক্তি রাশিয়ার খাদ্য ও সার রপ্তানির প্রতিবন্ধকতা দূর করতে পারেনি। যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তা পূরণ হয়নি। শিপিং ও বিমার ওপর বিধিনিষেধ আমাদের কৃষি বাণিজ্যকে বাধাগ্রস্ত করেছে।’ যদিও গত বছর চুক্তির পরে রেকর্ড পরিমাণ গম রপ্তানি করেছিল মস্কো।

আগের অভিযোগগুলোকে পুনরাবৃত্তি করে পুতিন সোমবার বলেন, ‘কৃষ্ণ সাগরের করিডোর সামরিক উদ্দেশে ব্যবহার করা উচিত নয়। যদি প্রতিশ্রুতিগুলোকে সম্মান করা হয়, তবে রাশিয়া কিছু দিনের মধ্যে চুক্তিতে ফিরে আসতে পারে।

শিগগিরই চুক্তির একটি অগ্রগতি আসতে পারে এমন আশা প্রকাশ করে এরদোয়ান বলেন, ‘তুরস্ক ও জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া চুক্তিটি ফের চালু করতে আমরা একটি নতুন প্যাকেজ আনবো। ত্রুটি-বিচ্যুতি দূর করে এ উদ্যোগ অব্যাহত রাখা উচিত।’

এদিকে, রাশিয়ার অভিযোগগুলোকে অস্বীকার করছে মস্কোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া দেশগুলো। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলছে, আমাদের নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার শস্য ও সার রপ্তানিতে কোনো প্রভাব ফেলছে না। তাদের অভিযোগের কোনো যৌক্তিকতা নেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চুক্তিটি নতুন করে না করা হলে এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে আফ্রিকার দেশগুলোর ওপর। কারণ, ওইসব দেশ রাশিয়া ও ইউক্রেনের শস্যের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তবে, আফ্রিকার দেশগুলোর সমস্যা লাঘবের কথা জানান পুতিন। সোমবার রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘চলতি সপ্তাহেই আফ্রিকার ছয় দেশে বিনামূল্যে শস্য পাঠাবো আমরা।’ রাশিয়ার এই শীর্ষ নেতা অভিযোগ করে বলেন, ‘কৃষ্ণ সাগর চুক্তির মাধ্যমে রপ্তানি করা শস্যের একটি বড় অংশ দরিদ্র দেশগুলোর পরিবর্তে পশ্চিমে চলে গেছে।’