ঢাকা ১১:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ এপ্রিল ২০২৪, ২৯ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

ভারতের কাছে ২২৮ রানের বিশাল ব্যবধানে হার পাকিস্তানের

ক্রীড়া ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:২৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  • / ৪৩১ বার পড়া হয়েছে
৭১ নিউজ বিডির সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বৃষ্টির কারণে ম্যাচ গড়ালো রিজার্ভ ডে-তে। তবে কলম্বোর প্রেমাদাসার উইকেটের চরিত্র খুব একটা বদলায়নি। উইকেটের সবটুকু সুবিধাই কাজে লাগালেন আগের দিন অপরাজিত থাকা ভারতের দুই ব্যাটার বিরাট কোহলি আর লোকেশ রাহুল। এই দুইজনের অনবদ্য সেঞ্চুরিতে সুপার ফোরে পাকিস্তানকে বড় হারের তিক্ত স্বাদ দিয়েছে ভারত।

সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ২ উইকেটের বিনিময়ে স্কোরবোর্ডে ৩৫৬ রানের রেকর্ড পুঁজি দাঁড় করায় পাকিস্তান। জবাবে ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ১২৮ রানে থামে পাকিস্তান। ২২৮ রানে হারলেও বাংলাদেশের বিপক্ষে জয়ে ফাইনালের দৌড়ে টিকে আছে পাকিস্তান।

৩৫৭ রানের লক্ষ্য স্বাভাবিকভাবেই যেকোনো দলের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং। আর প্রতিপক্ষ যদি হয় ভারত, তবে তা তো একপ্রকার অসাধ্যই। সেই অসম্ভব কাজটাকেই সম্ভব করতে নেমেছিলেন বাবর-রিজওয়ানরা। যদিও সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে পারেননি তারা। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে কিছুটা দেখেশুনে শুরু করলেও খুব বড় কোনো জুটি গড়তে পারেনি পাকিস্তান।

দলীয় ১৭ রানের মাথায় জসপ্রিত বুমরাহর বলে উইকেটের পেছনে শুভমান গিলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন বাঁহাতি ওপেনার ইমাম উল হক। ১৮ বলে ৯ রান আসে তার ব্যাট থেকে। শুরুর ধাক্কা সামলে ফখর জামানকে সঙ্গী করে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন অধিনায়ক বাবর আজম। তাতেও খুব বেশি সাফল্য মেলেনি। দলীয় ৪৩ রানের মাথায় হার্দিক পান্ডিয়ার বলে বোল্ড আউট হন বাবর। ২৪ বল খেলে তার ব্যাট থেকে আসে ১০ রান।

এরপরই বৃষ্টি বাঁধায় ফের ঘন্টা খানেক বন্ধ থাকে খেলা। বৃষ্টি শেষে খেলা মাঠে গড়ালেই সাজঘরের পথ ধরেন আরেক নির্ভরযোগ্য ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান। শার্দুল ঠাকুরের বলে রাহুলের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। ৫ বলে মাত্র ২ রান আসে তার ব্যাট থেকে।

এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় পাকিস্তান। শেষমেশ কুলদীপ যাদবের ঘূর্ণিতে ১২৮ রানে থামে পাকিস্তানের ইনিংস।

এর আগে, রোহিত ও শুভমান গিল মিলে দারুণ গড়েন ১২১ রানের বড় জুটি। অবশেষে জমে যাওয়া এই জুটি ভেঙে স্বস্তিতে ফেরে পাকিস্তান। ৫৬ রানে রোহিতকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন শাদাব খান। এরপর আরেক হাফসেঞ্চুরিয়ান গিলকে বিদায় করেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। ফেরার আগে গিল করেন ৫৮ রান। দুই ওপেনারকে হারানোর পর জুটি বাঁধেন বিরাট কোহলি ও লোকেশ রাহুল।

ওই জুটির লড়াইয়ের মাঝেই বৃষ্টি নেমে খেলায় বাগড়া দেয়। ২৪.১ ওভারে স্কোরবোর্ডে ১৪৭ রানের সময় বৃষ্টির বাঁধার পর গতকালের খেলা গড়ায় রিজার্ভ ডে-তে।

আজ ফের খেলতে নেমে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন দুই নির্ভরযোগ্য ব্যাটার কোহলি ও রাহুল। এই দুজনের ব্যাটিং দৃঢ়তায় পাত্তাই পায়নি পাকিস্তানি বোলাররা। শুরুতে রাহুল ও পরবর্তীতে সেঞ্চুরি তুলে নেন কোহলি। ১০০ বলে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন রাহুল। আর কোহলি ৮৪ বলে নিজের সেঞ্চুরি পূরণ করেন। এই দুই ব্যাটার অপরাজিত থেকে স্কোরবোর্ডে ৩৫৬ রানের সংগ্রহ দাঁড় করান। যা পাড়ি দিতে পারেনি পাকিস্তান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত : ৫০ ওভারে ৩৫৬/২ (রোহিত ৫৬, শুভমান ৫৮, কোহলি ১২২*, রাহুল ১১১*; শাহীন ১০-০-৭৯-১, নাসিম ৯.২-১-৫৩-০, ফাহিম ১০-০-৭৪-০, হারিস ৫-০-২৭-০, শাদাব ১০-১-৭১-১, ইফতিখার ৫.৪-০-৫২-০)।

পাকিস্তান : ৩২ ওভারে ১২৮/৮ (ফখর ২৭, ইমাম ৯, বাবর ১০, রিজওয়ান ২, সালমান ২৩, ইফতিখার ২৩, শাদাব ৬, ফাহিম ৪, আফ্রিদি ৭; বুমরাহ ৫-১-১৮-১, সিরাজ ৫-০-২৩-০, পান্ডিয়া ৫-০-১৭-১, ঠাকুর ৩-০-১৪-১, যাদব ৮-০-২৫-৫, জাদেজা ৫-০-২৬-০)।

নিউজটি শেয়ার করুন

ভারতের কাছে ২২৮ রানের বিশাল ব্যবধানে হার পাকিস্তানের

আপডেট সময় : ০৬:২৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩

বৃষ্টির কারণে ম্যাচ গড়ালো রিজার্ভ ডে-তে। তবে কলম্বোর প্রেমাদাসার উইকেটের চরিত্র খুব একটা বদলায়নি। উইকেটের সবটুকু সুবিধাই কাজে লাগালেন আগের দিন অপরাজিত থাকা ভারতের দুই ব্যাটার বিরাট কোহলি আর লোকেশ রাহুল। এই দুইজনের অনবদ্য সেঞ্চুরিতে সুপার ফোরে পাকিস্তানকে বড় হারের তিক্ত স্বাদ দিয়েছে ভারত।

সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ২ উইকেটের বিনিময়ে স্কোরবোর্ডে ৩৫৬ রানের রেকর্ড পুঁজি দাঁড় করায় পাকিস্তান। জবাবে ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ১২৮ রানে থামে পাকিস্তান। ২২৮ রানে হারলেও বাংলাদেশের বিপক্ষে জয়ে ফাইনালের দৌড়ে টিকে আছে পাকিস্তান।

৩৫৭ রানের লক্ষ্য স্বাভাবিকভাবেই যেকোনো দলের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং। আর প্রতিপক্ষ যদি হয় ভারত, তবে তা তো একপ্রকার অসাধ্যই। সেই অসম্ভব কাজটাকেই সম্ভব করতে নেমেছিলেন বাবর-রিজওয়ানরা। যদিও সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে পারেননি তারা। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে কিছুটা দেখেশুনে শুরু করলেও খুব বড় কোনো জুটি গড়তে পারেনি পাকিস্তান।

দলীয় ১৭ রানের মাথায় জসপ্রিত বুমরাহর বলে উইকেটের পেছনে শুভমান গিলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন বাঁহাতি ওপেনার ইমাম উল হক। ১৮ বলে ৯ রান আসে তার ব্যাট থেকে। শুরুর ধাক্কা সামলে ফখর জামানকে সঙ্গী করে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন অধিনায়ক বাবর আজম। তাতেও খুব বেশি সাফল্য মেলেনি। দলীয় ৪৩ রানের মাথায় হার্দিক পান্ডিয়ার বলে বোল্ড আউট হন বাবর। ২৪ বল খেলে তার ব্যাট থেকে আসে ১০ রান।

এরপরই বৃষ্টি বাঁধায় ফের ঘন্টা খানেক বন্ধ থাকে খেলা। বৃষ্টি শেষে খেলা মাঠে গড়ালেই সাজঘরের পথ ধরেন আরেক নির্ভরযোগ্য ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান। শার্দুল ঠাকুরের বলে রাহুলের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। ৫ বলে মাত্র ২ রান আসে তার ব্যাট থেকে।

এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় পাকিস্তান। শেষমেশ কুলদীপ যাদবের ঘূর্ণিতে ১২৮ রানে থামে পাকিস্তানের ইনিংস।

এর আগে, রোহিত ও শুভমান গিল মিলে দারুণ গড়েন ১২১ রানের বড় জুটি। অবশেষে জমে যাওয়া এই জুটি ভেঙে স্বস্তিতে ফেরে পাকিস্তান। ৫৬ রানে রোহিতকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন শাদাব খান। এরপর আরেক হাফসেঞ্চুরিয়ান গিলকে বিদায় করেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। ফেরার আগে গিল করেন ৫৮ রান। দুই ওপেনারকে হারানোর পর জুটি বাঁধেন বিরাট কোহলি ও লোকেশ রাহুল।

ওই জুটির লড়াইয়ের মাঝেই বৃষ্টি নেমে খেলায় বাগড়া দেয়। ২৪.১ ওভারে স্কোরবোর্ডে ১৪৭ রানের সময় বৃষ্টির বাঁধার পর গতকালের খেলা গড়ায় রিজার্ভ ডে-তে।

আজ ফের খেলতে নেমে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন দুই নির্ভরযোগ্য ব্যাটার কোহলি ও রাহুল। এই দুজনের ব্যাটিং দৃঢ়তায় পাত্তাই পায়নি পাকিস্তানি বোলাররা। শুরুতে রাহুল ও পরবর্তীতে সেঞ্চুরি তুলে নেন কোহলি। ১০০ বলে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন রাহুল। আর কোহলি ৮৪ বলে নিজের সেঞ্চুরি পূরণ করেন। এই দুই ব্যাটার অপরাজিত থেকে স্কোরবোর্ডে ৩৫৬ রানের সংগ্রহ দাঁড় করান। যা পাড়ি দিতে পারেনি পাকিস্তান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত : ৫০ ওভারে ৩৫৬/২ (রোহিত ৫৬, শুভমান ৫৮, কোহলি ১২২*, রাহুল ১১১*; শাহীন ১০-০-৭৯-১, নাসিম ৯.২-১-৫৩-০, ফাহিম ১০-০-৭৪-০, হারিস ৫-০-২৭-০, শাদাব ১০-১-৭১-১, ইফতিখার ৫.৪-০-৫২-০)।

পাকিস্তান : ৩২ ওভারে ১২৮/৮ (ফখর ২৭, ইমাম ৯, বাবর ১০, রিজওয়ান ২, সালমান ২৩, ইফতিখার ২৩, শাদাব ৬, ফাহিম ৪, আফ্রিদি ৭; বুমরাহ ৫-১-১৮-১, সিরাজ ৫-০-২৩-০, পান্ডিয়া ৫-০-১৭-১, ঠাকুর ৩-০-১৪-১, যাদব ৮-০-২৫-৫, জাদেজা ৫-০-২৬-০)।