ঢাকা ১২:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃত্যুর হার লাখ থেকে সিঙ্গেল ডিজিটে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৬:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  • / ৫১৫ বার পড়া হয়েছে
৭১ নিউজ বিডির সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃত্যুর হার লাখ থেকে সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। এজন্য জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ অভিজ্ঞতা বিনিময়ে প্রস্তুত। বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জলবায়ু বিষয়ক ঊচ্চপর্যায়ের সম্মেলনের প্লেনারি সেশনে এ কথা বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা জানান, দুর্যোগ পূর্ববর্তী সতর্কীকরণকে প্রাধান্য দিয়ে এটির ব্যবস্থাপনার জাতীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস মানুষকে জানাতে মোবাইল টেকনোলজি ব্যবহার করা হচ্ছে।

প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে রক্ষায় বাংলাদেশ বড় বিনিয়োগ করে দুর্যোগ পূর্ববর্তী সতর্কীকরণের বিষয়ে কাজ করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বিশ্ব নেতাদের রেয়াত যোগ্য অর্থায়নের তাগিদ দিয়েছেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে অভিযোজন এবং আগাম সতর্কতায় বিনিয়োগ করা সঠিক। তিনি বলেন, “আমরা আশা করি আমাদের উন্নয়ন সহযোগীরা জলবায়ু ন্যায্যতা প্রদানের জন্য এই সুযোগগুলোকে কাজে লাগাবে।’

শেখ হাসিনা আরও বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিবের দুটি উদ্যোগে সমর্থন দিতে বাংলাদেশ এই অধিবেশনে যোগ দিয়েছে। জলবায়ু ন্যায্যতার একজন প্রবক্তা হিসেবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এই এজেন্ডাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার যে কোনো গঠনমূলক পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন দিতে প্রস্তুত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ভূমিকম্প মডেলিং নিয়ে দেশব্যাপী একটি প্রদর্শনী মহড়া করতে জাতিসংঘকে অনুরোধ জানিয়েছে।

তিনি বলেন, তাঁরা আর্থ অবজারভেটরি হিসেবে বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু টু নিয়ে কাজ করছেন।

তিনি আরো বলেন, “বাংলাদেশ দক্ষিণ-দক্ষিণ এবং ত্রিভুজাকার সহযোগিতার মাধ্যমে অন্যান্য দুর্বল দেশগুলোর সঙ্গে তার দক্ষতা বিনিময় করতে ইচ্ছুক।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘সবার জন্য প্রাথমিক সতর্কতা’ এমডিবি এবং আইএফআই-কে এই ধরনের প্রচেষ্টায় যোগ দিতে উৎসাহিত করতে সক্ষম হবে।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ১৯৭০ সালে ভোলা ঘূর্ণিঝড়ের সময় যে লক্ষাধিক লোক মারা গিয়েছিল তার তুলনায় বাংলাদেশে প্রাণহানির সংখ্যা এক অঙ্কে নেমে এসেছে।

তিনি বলেন, “আমাদের ৬৫,০০০ উপকূলীয় মানুষের সমন্বয়ে বিশ্বের বৃহত্তম কমিউনিটি স্বেচ্ছাসেবক কর্মসূচি রয়েছে।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য বাংলাদেশ একটি সমন্বিত বহু-বিপত্তি প্রাথমিক সতর্কীকরণ পদ্ধতির সর্বশেষ জাতীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আমরা আবহাওয়ার পূর্বাভাসের নিয়মিত আপডেট দেওয়ার জন্য মোবাইল প্রযুক্তি ব্যবহার করছি।”

ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ) বিষয়ভিত্তিক রাষ্ট্রদূত সায়মা ওয়াজেদ এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৮তম অধিবেশনে (ইউএনজিএ) যোগ দিতে গত ১৭ই সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে যান প্রধানমন্ত্রী।

নিউজটি শেয়ার করুন

প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃত্যুর হার লাখ থেকে সিঙ্গেল ডিজিটে: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৬:৪৬:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৩

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃত্যুর হার লাখ থেকে সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। এজন্য জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ অভিজ্ঞতা বিনিময়ে প্রস্তুত। বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জলবায়ু বিষয়ক ঊচ্চপর্যায়ের সম্মেলনের প্লেনারি সেশনে এ কথা বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা জানান, দুর্যোগ পূর্ববর্তী সতর্কীকরণকে প্রাধান্য দিয়ে এটির ব্যবস্থাপনার জাতীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস মানুষকে জানাতে মোবাইল টেকনোলজি ব্যবহার করা হচ্ছে।

প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে রক্ষায় বাংলাদেশ বড় বিনিয়োগ করে দুর্যোগ পূর্ববর্তী সতর্কীকরণের বিষয়ে কাজ করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বিশ্ব নেতাদের রেয়াত যোগ্য অর্থায়নের তাগিদ দিয়েছেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে অভিযোজন এবং আগাম সতর্কতায় বিনিয়োগ করা সঠিক। তিনি বলেন, “আমরা আশা করি আমাদের উন্নয়ন সহযোগীরা জলবায়ু ন্যায্যতা প্রদানের জন্য এই সুযোগগুলোকে কাজে লাগাবে।’

শেখ হাসিনা আরও বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিবের দুটি উদ্যোগে সমর্থন দিতে বাংলাদেশ এই অধিবেশনে যোগ দিয়েছে। জলবায়ু ন্যায্যতার একজন প্রবক্তা হিসেবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এই এজেন্ডাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার যে কোনো গঠনমূলক পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন দিতে প্রস্তুত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ভূমিকম্প মডেলিং নিয়ে দেশব্যাপী একটি প্রদর্শনী মহড়া করতে জাতিসংঘকে অনুরোধ জানিয়েছে।

তিনি বলেন, তাঁরা আর্থ অবজারভেটরি হিসেবে বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু টু নিয়ে কাজ করছেন।

তিনি আরো বলেন, “বাংলাদেশ দক্ষিণ-দক্ষিণ এবং ত্রিভুজাকার সহযোগিতার মাধ্যমে অন্যান্য দুর্বল দেশগুলোর সঙ্গে তার দক্ষতা বিনিময় করতে ইচ্ছুক।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘সবার জন্য প্রাথমিক সতর্কতা’ এমডিবি এবং আইএফআই-কে এই ধরনের প্রচেষ্টায় যোগ দিতে উৎসাহিত করতে সক্ষম হবে।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ১৯৭০ সালে ভোলা ঘূর্ণিঝড়ের সময় যে লক্ষাধিক লোক মারা গিয়েছিল তার তুলনায় বাংলাদেশে প্রাণহানির সংখ্যা এক অঙ্কে নেমে এসেছে।

তিনি বলেন, “আমাদের ৬৫,০০০ উপকূলীয় মানুষের সমন্বয়ে বিশ্বের বৃহত্তম কমিউনিটি স্বেচ্ছাসেবক কর্মসূচি রয়েছে।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য বাংলাদেশ একটি সমন্বিত বহু-বিপত্তি প্রাথমিক সতর্কীকরণ পদ্ধতির সর্বশেষ জাতীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আমরা আবহাওয়ার পূর্বাভাসের নিয়মিত আপডেট দেওয়ার জন্য মোবাইল প্রযুক্তি ব্যবহার করছি।”

ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ) বিষয়ভিত্তিক রাষ্ট্রদূত সায়মা ওয়াজেদ এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৮তম অধিবেশনে (ইউএনজিএ) যোগ দিতে গত ১৭ই সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে যান প্রধানমন্ত্রী।