০৪:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ইংল্যান্ডের কাছে পাত্তা পেল না বাংলাদেশ

  • ক্রীড়া ডেস্ক
  • আপডেট : ০৫:৩৩:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর ২০২৩
  • ৫৭ দেখেছেন

চলমান বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচেই যেন মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখলো বাংলাদেশ দল। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের কাছে ব্যাটারদের চরম ব্যর্থতায় ১৩৭ রানের পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সাকিবের দল। ইংল্যান্ডের দেয়া ৩৬৫ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ২২৭ রানেই গুটিয়ে যায় টাইগাররা।

৩৬৫ রানের বড় লক্ষ্য। সেটি তাড়া করতে হলে অবিশ্বাস্য কিছুই করতে হতো বাংলাদেশের ব্যাটারদের। কিন্তু সেই রানপাহাড় পাড়ি দিতে গিয়ে শুরুতেই হোঁচট খায় বাংলাদেশ। ৫০ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে শুরুতেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ।

রানের খোঁজে থাকা লিটন এদিন ভাঙেন ব্যর্থতার বৃত্ত। আগ্রাসী ব্যাটিং করে ফিফটি তুলে নেন তিনি। প্রতিরোধ লড়াইয়ে তার সঙ্গী হন অভিজ্ঞ মুশফিক। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ৩৮ বলে ক্যারিয়ারের ১১তম হাফসেঞ্চুরি পূরণ করেন লিটন। দৃঢ়তা দেখানো মুশফিকের সঙ্গে তার জুটির রান পঞ্চাশ ছাড়ায় ৫৮ বলে। ২১তম ওভারের শেষ বলে থামতে হয় লিটনকে। ৬৬ বলে ৭ চার ও ২ ছক্কায় ৭৬ রান করেন তিনি।

৬১ বলে ফিফটি পান অভিজ্ঞ মুশফিকও। তাওহিদ হৃদয়ের সঙ্গে তার ৪৩ রানের জুটির ইতি ঘটে এর পরপরই। টপলির বলে বড় শট খেলার চেষ্টায় থার্ডম্যানে আদিল রশিদের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। তার ৬৪ বলে ৫১ রানের ইনিংসে ছিল ৪টি চার। শেষদিকে তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলামরা কেবল হারের ব্যবধানই কমান।

এর আগে, টস জিতে আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন সাকিব। কিন্তু তার এ সিদ্ধান্ত যে ভুল ছিল তা প্রথম পাওয়ার প্লেতেই টের পায় বাংলাদেশ। দলীয় ১১৫ রানের সময় বেয়ারেস্টোকে বোল্ড করেন সাকিব। তার আগে বেয়ারেস্টো ৫৯ বলে ৮ চারের সাহায্যে ৫২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। এটি ছিল তার ক্যারিয়ারের ১৬তম হাফ সেঞ্চুরি।

দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে মালান-জো রুটের সঙ্গে ১৫১ রানের জুটি গড়েন। দলীয় ২৬৬ রানে মালানকে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন শেখ মেহেদী। তার আগে অবশ্য তিনি ১০৭ বলে ৫ ছয় ও ১৬ চারে ১৪০ রানের ঝলমলে ইনিংস উপহার দেন। এটি ছিল তার ক্যারিয়ারের ৬ষ্ঠ সেঞ্চুরি এবং ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস।

এরপর দ্রুতই ফিরে যান অধিনায়ক বাটলার। তিনি শরিফুলের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন। দলীয় ৩০৮ রানে রুটকে ফেরান শরিফুল। তার আগে রুট ৬৮ বলে ১ ছয় ও ৮ চারের সাহায্যে ৮২ রান সংগ্রহ করেন। এরপর দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে ইংলিশরা। শেষ দিকে টাইগার বোলাররা তাদের দাপট দেখাতে শুরু করলে ৩৬৪ রানে আটকে যায় ইংলিশরা। বাংলাদেশের হয়ে শেখ মেহেদী ৪টি, শরিফুল ৩টি, তাসকিন ও সাকিব একটি করে উইকেট লাভ করেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
ইংল্যান্ড : ৫০ ওভারে ৩৬৪/৯ (বেয়ারস্টো ৫২, মালান ১৪০, রুট ৮২, বাটলার ২০, ব্রুক ২০, লিভিংস্টোন ০, কারান ১১, ওকস ১৪, রশিদ ১১, উড ৬*, টপলি ১*; মুস্তাফিজ ১০-০-৭০-০ , তাসকিন ৬-০-৩৮-১, শরিফুল ১০-০-৭৫-৩, মেহেদি ৮-০-৭১-৪, সাকিব ১০-০-৫২-১, মিরাজ ৬-০-৫৫-০)।

বাংলাদেশ : ৪৮.২ ওভারে ২২৭/১০ (লিটন ৭০, তানজিদ ১, শান্ত ০, সাকিব ১, মিরাজ ৮, মুশফিক ৫১, তাওহিদ ৩৯, মেহেদি ১৪, তাসকিন ১৫, শরিফুল ১২, মুস্তাফিজ ৩; ওকস ৮-০-৪৯-২, টপলি ১০-১-৪৩-৪, কারান ৭.২-০-৪৭-১, উড ১০-০-২৯-১, আদিল ১০-০-৪২-১, লিয়াম ৩-০-১৩-১)।

ফলাফল : ইংল্যান্ড ১৩৭ রানে জয়ী।

ইংল্যান্ডের কাছে পাত্তা পেল না বাংলাদেশ

আপডেট : ০৫:৩৩:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর ২০২৩

চলমান বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচেই যেন মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখলো বাংলাদেশ দল। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের কাছে ব্যাটারদের চরম ব্যর্থতায় ১৩৭ রানের পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সাকিবের দল। ইংল্যান্ডের দেয়া ৩৬৫ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ২২৭ রানেই গুটিয়ে যায় টাইগাররা।

৩৬৫ রানের বড় লক্ষ্য। সেটি তাড়া করতে হলে অবিশ্বাস্য কিছুই করতে হতো বাংলাদেশের ব্যাটারদের। কিন্তু সেই রানপাহাড় পাড়ি দিতে গিয়ে শুরুতেই হোঁচট খায় বাংলাদেশ। ৫০ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে শুরুতেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ।

রানের খোঁজে থাকা লিটন এদিন ভাঙেন ব্যর্থতার বৃত্ত। আগ্রাসী ব্যাটিং করে ফিফটি তুলে নেন তিনি। প্রতিরোধ লড়াইয়ে তার সঙ্গী হন অভিজ্ঞ মুশফিক। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ৩৮ বলে ক্যারিয়ারের ১১তম হাফসেঞ্চুরি পূরণ করেন লিটন। দৃঢ়তা দেখানো মুশফিকের সঙ্গে তার জুটির রান পঞ্চাশ ছাড়ায় ৫৮ বলে। ২১তম ওভারের শেষ বলে থামতে হয় লিটনকে। ৬৬ বলে ৭ চার ও ২ ছক্কায় ৭৬ রান করেন তিনি।

৬১ বলে ফিফটি পান অভিজ্ঞ মুশফিকও। তাওহিদ হৃদয়ের সঙ্গে তার ৪৩ রানের জুটির ইতি ঘটে এর পরপরই। টপলির বলে বড় শট খেলার চেষ্টায় থার্ডম্যানে আদিল রশিদের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। তার ৬৪ বলে ৫১ রানের ইনিংসে ছিল ৪টি চার। শেষদিকে তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলামরা কেবল হারের ব্যবধানই কমান।

এর আগে, টস জিতে আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন সাকিব। কিন্তু তার এ সিদ্ধান্ত যে ভুল ছিল তা প্রথম পাওয়ার প্লেতেই টের পায় বাংলাদেশ। দলীয় ১১৫ রানের সময় বেয়ারেস্টোকে বোল্ড করেন সাকিব। তার আগে বেয়ারেস্টো ৫৯ বলে ৮ চারের সাহায্যে ৫২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। এটি ছিল তার ক্যারিয়ারের ১৬তম হাফ সেঞ্চুরি।

দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে মালান-জো রুটের সঙ্গে ১৫১ রানের জুটি গড়েন। দলীয় ২৬৬ রানে মালানকে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন শেখ মেহেদী। তার আগে অবশ্য তিনি ১০৭ বলে ৫ ছয় ও ১৬ চারে ১৪০ রানের ঝলমলে ইনিংস উপহার দেন। এটি ছিল তার ক্যারিয়ারের ৬ষ্ঠ সেঞ্চুরি এবং ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস।

এরপর দ্রুতই ফিরে যান অধিনায়ক বাটলার। তিনি শরিফুলের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন। দলীয় ৩০৮ রানে রুটকে ফেরান শরিফুল। তার আগে রুট ৬৮ বলে ১ ছয় ও ৮ চারের সাহায্যে ৮২ রান সংগ্রহ করেন। এরপর দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে ইংলিশরা। শেষ দিকে টাইগার বোলাররা তাদের দাপট দেখাতে শুরু করলে ৩৬৪ রানে আটকে যায় ইংলিশরা। বাংলাদেশের হয়ে শেখ মেহেদী ৪টি, শরিফুল ৩টি, তাসকিন ও সাকিব একটি করে উইকেট লাভ করেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
ইংল্যান্ড : ৫০ ওভারে ৩৬৪/৯ (বেয়ারস্টো ৫২, মালান ১৪০, রুট ৮২, বাটলার ২০, ব্রুক ২০, লিভিংস্টোন ০, কারান ১১, ওকস ১৪, রশিদ ১১, উড ৬*, টপলি ১*; মুস্তাফিজ ১০-০-৭০-০ , তাসকিন ৬-০-৩৮-১, শরিফুল ১০-০-৭৫-৩, মেহেদি ৮-০-৭১-৪, সাকিব ১০-০-৫২-১, মিরাজ ৬-০-৫৫-০)।

বাংলাদেশ : ৪৮.২ ওভারে ২২৭/১০ (লিটন ৭০, তানজিদ ১, শান্ত ০, সাকিব ১, মিরাজ ৮, মুশফিক ৫১, তাওহিদ ৩৯, মেহেদি ১৪, তাসকিন ১৫, শরিফুল ১২, মুস্তাফিজ ৩; ওকস ৮-০-৪৯-২, টপলি ১০-১-৪৩-৪, কারান ৭.২-০-৪৭-১, উড ১০-০-২৯-১, আদিল ১০-০-৪২-১, লিয়াম ৩-০-১৩-১)।

ফলাফল : ইংল্যান্ড ১৩৭ রানে জয়ী।