১১:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪, ২ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিএনপি-জামায়াতের দুই দিনের অবরোধ শুরু

একদিন বিরতি দিয়ে আজ বুধবার (১৫ই নভেম্বর) ভোর থেকে পঞ্চম দফায় বিএনপি-জামায়াত এবং সমমনা দলগুলোর ডাকা দুই দিনের অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সকাল ছয়টা থেকে আগামীকাল শুক্রবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত সারাদেশে সড়ক, রেল ও নৌপথে এই কর্মসূচি পালন করা হবে। চতুর্থ ধাপের অবরোধ শেষ হয় মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) ভোর ৬টায়।

এদিকে পঞ্চম দফা হরতাল শুরুর আগেই মঙ্গলবার রাতে (রাত ১১টা পর্যন্ত) রাজধানীতে চারটি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ধারণা করা হচ্ছে, অবরোধের সমর্থনে এসব বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে।

বরাবরের মতই বিএনপি অফিসে তালা ঝুলতে দেখা যায়৷ ইতোমধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে পুলিশি ব্যারিকেড তুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু গত ১৮ দিনেও নীরবতা ভাঙেনি দেশের প্রধান বিরোধী দলের কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক এ কার্যালয়ের। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে অবরোধ কর্মসূচি পালন করলেও অর্ধমাসের বেশি সময় ধরে বিএনপির কোনো নেতাকর্মীকে প্রধান কার্যালয়ের সামনে দেখা যায়নি।

বুধবার সকাল থেকেই কার্যালয়ের সামনে দু-তিন জন পুলিশ সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন৷ তবে পাশে ভিক্টোরিয়া হোটেলের গলিতে অর্ধশতাধিক পুলিশ সদস্য অবস্থান করছেন৷ এছাড়া হোটেল মিডওয়ের সামনে পাহারায় রয়েছেন ১০-১২ জন পুলিশ সদস্য৷ এছাড়া ফকিরাপুল মোড়ে র‍্যাবের টহল গাড়ি ও নাইটিংগেল মোড়ে রয়েছে পুলিশের সরব উপস্থিতি।

এছাড়া নয়াপল্টনের সামনের রাস্তায় যান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও সেটি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কম। নাইটিংগেল মোড় থেকে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত রিকশা, সিএনজি, মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার চলাচল করছে। তবে কোনো গণ-পরিবহন চলাচল করতে দেখা যায়নি। এছাড়া বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের কোনো মিছিল বা রাস্তা অবরোধের ঘটানা ঘটেনি।

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে থেকে তিনজকে আটক করেছে পুলিশ। বেলা ১১টার দিকে তাদের পল্টন মডেল থানা পুলিশ আটক করে। পল্টন মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাহ উদ্দিন মিয়া আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, ১৮দিন পর আজ বেলা ১১টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলটির কয়েকজন নেতাকর্মী ও সমর্থক অবস্থান নেন৷ এসময় জাতীয়তাবাদী জনতা দলের সভাপতি রায়হানুল রানার নেতৃত্বে অবরোধ সমর্থনে স্লোগান দেন তারা৷

অবরোধের প্রতিবাদে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। রাজধানীর ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগরের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। এদিন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদেরও সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।

দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হাবিবুর রহমান সিরাজ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শরফুদ্দিন আহমেদ সেন্টুসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত রয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর আজিমপুর হয়ে সিটি কলেজ-ধানমন্ডির দিকে চলাচল করা বাসগুলো ছেড়ে যাচ্ছে। তবে বাসগুলোতে যাত্রী সংখ্যা ছিল যথেষ্ট কম। পরিস্থিতি বিবেচনায় সহিংসতার আশঙ্কায় অনেকে বাসা থেকে কম বের হচ্ছেন।

নিউমার্কেট থানার এএসআই মাহমুদুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকেই আজিমপুর-সিটি কলেজ রোডে যান চলাচল করছে। এর মধ্যে কোনো সহিংসতা লক্ষ্য করা যায়নি। যেকোনো ধরনের পরিস্থিতির জন্য পুলিশের টিম সতর্ক রয়েছে।

অবরোধের প্রথম দিনে মিছিল ও পিকেটিং করেছে তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। বুধবার (১৫ নভেম্বর) রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় কাজী নজরুল ইসলাম সড়ক অবরোধ করে এ কর্মসূচি পালন করে তারা। মিছিটি তেজগাঁও থানা পুলিশ ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

সংগঠনের সভাপতি ফয়সাল দেওয়ান ও সাধারণ সম্পাদক মো. বেলাল হোসেন খানের নেতৃত্বে মিছিলে আরও উপস্থিত ছিলেন—শামিম আহমেদ রবিন, সাখওয়াত হোসেন সরকার, এস, আই, জুয়েল শিকদার, আশিক আহমেদ, নাঈমুল ইসলাম নাজিম,মামুন মালতিয়া, নাজমুল হুদা রাকিব, মেশকাত হোসেন, নাহিদুল ইসলাম বেপারী, আনোয়ার হোসেন রানা।

এছড়া আরও ছিলেন, আব্দুর রহমান, রাশেদ খান, সোহানূর রহমান সাগর, সাজ্জাদ হোসেন শাকিল, মিনহাজুল ইসলাম আবেদিন, হাসনাইন আহমেদ, সাইফুল ইসলাম (শিকদার শাহিন), নাজমুল হাসান পাপন, সজিব আহমেদ হৃদয়, আতিকুর রহমান শামিম সহ আরও অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী।

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহা. দেলাওয়ার হোসেনের নেতৃত্বে রাজধানীর বঙ্গবাজার ফায়ার সার্ভিস সড়কে অবরোধ করেন নেতাকর্মীরা। ধানমন্ডি শংকর এলাকায় সড়ক অবরোধ, পিকেটিং, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াত। এসময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের মজলিশে শূরা সদস্য অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন তালুকদার, আবু শাহদাত মোহাম্মদ আলী, জাহেনুর রহমান, সারুয়ার হোসেনসহ অন্য নেতারা।

রাজধানীর ডেমরায় মহাসড়ক অবরোধ করে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মোকাররম হোসাইন খানের নেতৃত্বে এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন মজলিসে শূরা সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী, আবু জয়নব, হেলাল উদদীন, আবুল বাসার, মোজাফফর হোসাইন, মাওলানা দেলোয়ার হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার তমিজ উদ্দীন জসিম উদ্দীন ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নেতারা। আজ সকালে কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য শামসুর রহমানের নেতৃত্বে রাজধানীর বাসাবো বৌদ্ধ মন্দির বিশ্বরোড এলাকায় অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে জামায়াত। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন জোন সহকারী পরিচালক আবু নাবিল টিম সদস্য মতিউর রহমান, মহানগরী মজলিসের সদস্য আব্দুল বারী, মো. ইসহাক, অ্যাডভোকেট রিয়াজউদ্দিন, শেখ আবু নূর মোহাম্মদ।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ড. মোবারক হোসাইনের নেতৃত্বে যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার মুখের ডেমরার দিকের এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে জামায়াত। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুর রহীম জীবন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিসে শূরা সদস্য মাওলানা সাদেক বিল্লাহ সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

অন্যদিকে অবরোধের সমর্থনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। বুধবার (১৫ নভেম্বর) সকালে পুরান ঢাকার বাংলাবাজার এলাকায় এ বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালন করেন তারা। মিছিলে নেতৃত্ব দেন শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আসাদুজ্জামান আসলাম ও সাধারণ সম্পাদক সুজন মোল্লা।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সংসদের সহ সভাপতি এবিএম মাহমুদ আলম সর্দার, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলেরসহ সভাপতি- শামীম হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক- সুমন সর্দার, জাফর আহমেদ প্রমুখ।

এদিকে গাজীপুরের শ্রীপুরে অবরোধের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি। এ সময় তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটালে বিএনপি-আওয়ামী লীগের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

বুধবার (১৫ নভেম্বর) সকাল পৌনে ৭টার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুরের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বেড়াইদেরচালা এলাকার ১নং সিএন্ডবি বাজারে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে বিএনপি নেতাকর্মীরা মহাসড়ক থেকে সরে যান।

বিএনপির নেতাকর্মীরা জানায়, বুধবার সকাল পৌনে সাতটায় বিএনপির সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চুর নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেন। এ সময় অবরোধের সমর্থনে বিএনপির নেতাকর্মীরা পিকেটিং করলে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা উপস্থিত হয়। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে বিএনপির নেতাকর্মীরা মহাসড়ক থেকে সরে যান। এ সময় তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

শ্রীপুর পৌরসভার ৭নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আবুল হোসেন বলেন, বুধবার সকালে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো ধাওয়ার ঘটনা ঘটেনি। বিএনপি নেতাকর্মীরা মহাসড়কে পর পর ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে বিএনপির নেতাকর্মীরা মহাসড়ক থেকে পালিয়ে যায়।

ফেনী জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছেন যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) রাত থেকে শহরের ইসলামপুর রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে সামনে অবস্থান করছেন তারা।

বুধবার (১৫ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলছে। তবে বাইরে ফেনী পৌর আওয়ামী যুবলীগ সভাপতি রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার নেতৃত্বে অবস্থান করছেন যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

এ প্রসঙ্গে পৌর যুবলীগ সভাপতি রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, এখানে বিএনপির অফিস আছে বলেও আমাদের জানা নেই। এ ইসলামপুর রোড ব্যবসায়ীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা। অতীতে বিএনপি-জামায়াত এখানে অগ্নিসন্ত্রাস করেছে। এটি চিন্তা করে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ও স্বস্তি দেওয়ার জন্য ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারীর নির্দেশে এখানে আমরা অবস্থান করছি।

পঞ্চম দফা অবরোধের প্রথম দিনে পটুয়াখালী সরকারি কলেজের প্রথম ও দ্বিতীয় গেটে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন কলেজ শাখার ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। বুধবার (১৫ নভেম্বর) ভোর ৬টা দিকে অবরোধের সমর্থন জানিয়ে পটুয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত হয়ে দুই গেটে ছাত্রদল লেখা তালা ঝুলিয়ে ব্যানার টানিয়ে চলে যান।

জানা যায়, পটুয়াখালী সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক বেলাল হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল হোসেন এবং মেহেদী হাসান রাকিবের নেতৃত্বে বুধবার ফজরের নামাজের পরে ৪-৫ জন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কলেজের পেছনের গেটে ও প্রধান ফটকের গেটে ব্যানার টানিয়ে তালা ঝুলিয়ে দ্রুত চলে যান।

মুন্সিগঞ্জ শহরে ৪ ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) পৃথক দুটি স্থানে কাছাকাছি সময়ে চারটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা। রাত ১১টার দিকে শহরের খালিষ্ট এলাকার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস সংলগ্ন সড়ক ও ইসলামপুর এলাকার পিটিআই সংলগ্ন সড়কে ওই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে শহরে ৯ দিনে ৩ বার ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলো। ঘটনার পর আতঙ্ক বিরাজ করছে পুরো এলাকায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ১১টা আগ মুহুর্তে পরপর বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনার পরপরই দৌড়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় চারিদিক ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়।

অন্যদিকে গতকাল মঙ্গলবার বিকালে এক ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এই অবরোধ কর্মসূচি সফল করতে নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি’র জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রুহুল কবির রিজভী সারা দেশে বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী নেতা-কর্মীদের নামে পুলিশ বাহিনীর মামলা ও গ্রেফতারের তথ্য তুলে ধরেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শেষ ২৪ ঘণ্টায় ৪২০ জনের বেশি নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার, ১১টি মামলায় ১ হাজার ৩৫০ জনের বেশি নেতা-কর্মীর নামে মামলা হয়েছে।

গত সোমবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতা ত্যাগে বাধ্য করতে এবং নির্দলীয় সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচনের অনুষ্ঠানের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি-সমমনা দলগুলো।

রিজভী জানা, ‘অন্যান্য রাজনৈতিক দল, যারা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন করে আসছে, তারাও একই ধরনের কর্মসূচি পালন করছে। বুধবার ভোর ৬টা থেকে শুরু হয়ে শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত সারাদেশে অবরোধ কর্মসূচি পালিত হবে। এটি হবে আমাদের অবরোধ কর্মসূচির পঞ্চম ধাপ। গণমাধ্যম ও সংবাদপত্রের গাড়ি, জরুরি সেবায় নিয়োজিত অ্যাম্বুলেন্স ও অক্সিজেন সিলিন্ডার বহনকারী গাড়ি অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে।’

এর আগে চার দফায় ১৯৬ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি।

একই দিন জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশও অবরোধের ডাক দেয়। এক বিবৃতিতে দলটির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম বলেন, সরকারের পদত্যাগ, নির্বাচনকালীন কেয়ারটেকার সরকার গঠন, আমির জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানসহ সব রাজবন্দি এবং ওলামা-মাশায়েখের মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং দ্রব্যমূল্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসার দাবিতে আমি জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আগামী ১৫ নভেম্বর ভোর ৬টা থেকে শুরু হয়ে ১৭ নভেম্বর ভোর ৬টা পর্যন্ত সারাদেশে টানা ৪৮ ঘণ্টা শান্তিপূর্ণ সড়ক, রেল ও নৌপথ অবরোধের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করছি।

বিএনপি-জামায়াতের দুই দিনের অবরোধ শুরু

আপডেট : ০৭:৩১:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৩

একদিন বিরতি দিয়ে আজ বুধবার (১৫ই নভেম্বর) ভোর থেকে পঞ্চম দফায় বিএনপি-জামায়াত এবং সমমনা দলগুলোর ডাকা দুই দিনের অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সকাল ছয়টা থেকে আগামীকাল শুক্রবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত সারাদেশে সড়ক, রেল ও নৌপথে এই কর্মসূচি পালন করা হবে। চতুর্থ ধাপের অবরোধ শেষ হয় মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) ভোর ৬টায়।

এদিকে পঞ্চম দফা হরতাল শুরুর আগেই মঙ্গলবার রাতে (রাত ১১টা পর্যন্ত) রাজধানীতে চারটি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ধারণা করা হচ্ছে, অবরোধের সমর্থনে এসব বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে।

বরাবরের মতই বিএনপি অফিসে তালা ঝুলতে দেখা যায়৷ ইতোমধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে পুলিশি ব্যারিকেড তুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু গত ১৮ দিনেও নীরবতা ভাঙেনি দেশের প্রধান বিরোধী দলের কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক এ কার্যালয়ের। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে অবরোধ কর্মসূচি পালন করলেও অর্ধমাসের বেশি সময় ধরে বিএনপির কোনো নেতাকর্মীকে প্রধান কার্যালয়ের সামনে দেখা যায়নি।

বুধবার সকাল থেকেই কার্যালয়ের সামনে দু-তিন জন পুলিশ সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন৷ তবে পাশে ভিক্টোরিয়া হোটেলের গলিতে অর্ধশতাধিক পুলিশ সদস্য অবস্থান করছেন৷ এছাড়া হোটেল মিডওয়ের সামনে পাহারায় রয়েছেন ১০-১২ জন পুলিশ সদস্য৷ এছাড়া ফকিরাপুল মোড়ে র‍্যাবের টহল গাড়ি ও নাইটিংগেল মোড়ে রয়েছে পুলিশের সরব উপস্থিতি।

এছাড়া নয়াপল্টনের সামনের রাস্তায় যান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও সেটি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কম। নাইটিংগেল মোড় থেকে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত রিকশা, সিএনজি, মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার চলাচল করছে। তবে কোনো গণ-পরিবহন চলাচল করতে দেখা যায়নি। এছাড়া বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের কোনো মিছিল বা রাস্তা অবরোধের ঘটানা ঘটেনি।

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে থেকে তিনজকে আটক করেছে পুলিশ। বেলা ১১টার দিকে তাদের পল্টন মডেল থানা পুলিশ আটক করে। পল্টন মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাহ উদ্দিন মিয়া আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, ১৮দিন পর আজ বেলা ১১টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলটির কয়েকজন নেতাকর্মী ও সমর্থক অবস্থান নেন৷ এসময় জাতীয়তাবাদী জনতা দলের সভাপতি রায়হানুল রানার নেতৃত্বে অবরোধ সমর্থনে স্লোগান দেন তারা৷

অবরোধের প্রতিবাদে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। রাজধানীর ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগরের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। এদিন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদেরও সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।

দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হাবিবুর রহমান সিরাজ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শরফুদ্দিন আহমেদ সেন্টুসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত রয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর আজিমপুর হয়ে সিটি কলেজ-ধানমন্ডির দিকে চলাচল করা বাসগুলো ছেড়ে যাচ্ছে। তবে বাসগুলোতে যাত্রী সংখ্যা ছিল যথেষ্ট কম। পরিস্থিতি বিবেচনায় সহিংসতার আশঙ্কায় অনেকে বাসা থেকে কম বের হচ্ছেন।

নিউমার্কেট থানার এএসআই মাহমুদুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকেই আজিমপুর-সিটি কলেজ রোডে যান চলাচল করছে। এর মধ্যে কোনো সহিংসতা লক্ষ্য করা যায়নি। যেকোনো ধরনের পরিস্থিতির জন্য পুলিশের টিম সতর্ক রয়েছে।

অবরোধের প্রথম দিনে মিছিল ও পিকেটিং করেছে তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। বুধবার (১৫ নভেম্বর) রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় কাজী নজরুল ইসলাম সড়ক অবরোধ করে এ কর্মসূচি পালন করে তারা। মিছিটি তেজগাঁও থানা পুলিশ ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

সংগঠনের সভাপতি ফয়সাল দেওয়ান ও সাধারণ সম্পাদক মো. বেলাল হোসেন খানের নেতৃত্বে মিছিলে আরও উপস্থিত ছিলেন—শামিম আহমেদ রবিন, সাখওয়াত হোসেন সরকার, এস, আই, জুয়েল শিকদার, আশিক আহমেদ, নাঈমুল ইসলাম নাজিম,মামুন মালতিয়া, নাজমুল হুদা রাকিব, মেশকাত হোসেন, নাহিদুল ইসলাম বেপারী, আনোয়ার হোসেন রানা।

এছড়া আরও ছিলেন, আব্দুর রহমান, রাশেদ খান, সোহানূর রহমান সাগর, সাজ্জাদ হোসেন শাকিল, মিনহাজুল ইসলাম আবেদিন, হাসনাইন আহমেদ, সাইফুল ইসলাম (শিকদার শাহিন), নাজমুল হাসান পাপন, সজিব আহমেদ হৃদয়, আতিকুর রহমান শামিম সহ আরও অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী।

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহা. দেলাওয়ার হোসেনের নেতৃত্বে রাজধানীর বঙ্গবাজার ফায়ার সার্ভিস সড়কে অবরোধ করেন নেতাকর্মীরা। ধানমন্ডি শংকর এলাকায় সড়ক অবরোধ, পিকেটিং, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াত। এসময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের মজলিশে শূরা সদস্য অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন তালুকদার, আবু শাহদাত মোহাম্মদ আলী, জাহেনুর রহমান, সারুয়ার হোসেনসহ অন্য নেতারা।

রাজধানীর ডেমরায় মহাসড়ক অবরোধ করে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মোকাররম হোসাইন খানের নেতৃত্বে এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন মজলিসে শূরা সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী, আবু জয়নব, হেলাল উদদীন, আবুল বাসার, মোজাফফর হোসাইন, মাওলানা দেলোয়ার হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার তমিজ উদ্দীন জসিম উদ্দীন ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নেতারা। আজ সকালে কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য শামসুর রহমানের নেতৃত্বে রাজধানীর বাসাবো বৌদ্ধ মন্দির বিশ্বরোড এলাকায় অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে জামায়াত। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন জোন সহকারী পরিচালক আবু নাবিল টিম সদস্য মতিউর রহমান, মহানগরী মজলিসের সদস্য আব্দুল বারী, মো. ইসহাক, অ্যাডভোকেট রিয়াজউদ্দিন, শেখ আবু নূর মোহাম্মদ।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ড. মোবারক হোসাইনের নেতৃত্বে যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার মুখের ডেমরার দিকের এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে জামায়াত। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুর রহীম জীবন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিসে শূরা সদস্য মাওলানা সাদেক বিল্লাহ সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

অন্যদিকে অবরোধের সমর্থনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। বুধবার (১৫ নভেম্বর) সকালে পুরান ঢাকার বাংলাবাজার এলাকায় এ বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালন করেন তারা। মিছিলে নেতৃত্ব দেন শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আসাদুজ্জামান আসলাম ও সাধারণ সম্পাদক সুজন মোল্লা।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সংসদের সহ সভাপতি এবিএম মাহমুদ আলম সর্দার, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলেরসহ সভাপতি- শামীম হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক- সুমন সর্দার, জাফর আহমেদ প্রমুখ।

এদিকে গাজীপুরের শ্রীপুরে অবরোধের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি। এ সময় তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটালে বিএনপি-আওয়ামী লীগের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

বুধবার (১৫ নভেম্বর) সকাল পৌনে ৭টার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুরের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বেড়াইদেরচালা এলাকার ১নং সিএন্ডবি বাজারে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে বিএনপি নেতাকর্মীরা মহাসড়ক থেকে সরে যান।

বিএনপির নেতাকর্মীরা জানায়, বুধবার সকাল পৌনে সাতটায় বিএনপির সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চুর নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেন। এ সময় অবরোধের সমর্থনে বিএনপির নেতাকর্মীরা পিকেটিং করলে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা উপস্থিত হয়। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে বিএনপির নেতাকর্মীরা মহাসড়ক থেকে সরে যান। এ সময় তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

শ্রীপুর পৌরসভার ৭নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আবুল হোসেন বলেন, বুধবার সকালে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো ধাওয়ার ঘটনা ঘটেনি। বিএনপি নেতাকর্মীরা মহাসড়কে পর পর ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে বিএনপির নেতাকর্মীরা মহাসড়ক থেকে পালিয়ে যায়।

ফেনী জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছেন যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) রাত থেকে শহরের ইসলামপুর রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে সামনে অবস্থান করছেন তারা।

বুধবার (১৫ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলছে। তবে বাইরে ফেনী পৌর আওয়ামী যুবলীগ সভাপতি রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার নেতৃত্বে অবস্থান করছেন যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

এ প্রসঙ্গে পৌর যুবলীগ সভাপতি রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, এখানে বিএনপির অফিস আছে বলেও আমাদের জানা নেই। এ ইসলামপুর রোড ব্যবসায়ীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা। অতীতে বিএনপি-জামায়াত এখানে অগ্নিসন্ত্রাস করেছে। এটি চিন্তা করে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ও স্বস্তি দেওয়ার জন্য ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারীর নির্দেশে এখানে আমরা অবস্থান করছি।

পঞ্চম দফা অবরোধের প্রথম দিনে পটুয়াখালী সরকারি কলেজের প্রথম ও দ্বিতীয় গেটে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন কলেজ শাখার ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। বুধবার (১৫ নভেম্বর) ভোর ৬টা দিকে অবরোধের সমর্থন জানিয়ে পটুয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত হয়ে দুই গেটে ছাত্রদল লেখা তালা ঝুলিয়ে ব্যানার টানিয়ে চলে যান।

জানা যায়, পটুয়াখালী সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক বেলাল হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল হোসেন এবং মেহেদী হাসান রাকিবের নেতৃত্বে বুধবার ফজরের নামাজের পরে ৪-৫ জন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কলেজের পেছনের গেটে ও প্রধান ফটকের গেটে ব্যানার টানিয়ে তালা ঝুলিয়ে দ্রুত চলে যান।

মুন্সিগঞ্জ শহরে ৪ ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) পৃথক দুটি স্থানে কাছাকাছি সময়ে চারটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা। রাত ১১টার দিকে শহরের খালিষ্ট এলাকার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস সংলগ্ন সড়ক ও ইসলামপুর এলাকার পিটিআই সংলগ্ন সড়কে ওই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে শহরে ৯ দিনে ৩ বার ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলো। ঘটনার পর আতঙ্ক বিরাজ করছে পুরো এলাকায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ১১টা আগ মুহুর্তে পরপর বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনার পরপরই দৌড়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় চারিদিক ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়।

অন্যদিকে গতকাল মঙ্গলবার বিকালে এক ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এই অবরোধ কর্মসূচি সফল করতে নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি’র জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রুহুল কবির রিজভী সারা দেশে বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী নেতা-কর্মীদের নামে পুলিশ বাহিনীর মামলা ও গ্রেফতারের তথ্য তুলে ধরেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শেষ ২৪ ঘণ্টায় ৪২০ জনের বেশি নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার, ১১টি মামলায় ১ হাজার ৩৫০ জনের বেশি নেতা-কর্মীর নামে মামলা হয়েছে।

গত সোমবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতা ত্যাগে বাধ্য করতে এবং নির্দলীয় সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচনের অনুষ্ঠানের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি-সমমনা দলগুলো।

রিজভী জানা, ‘অন্যান্য রাজনৈতিক দল, যারা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন করে আসছে, তারাও একই ধরনের কর্মসূচি পালন করছে। বুধবার ভোর ৬টা থেকে শুরু হয়ে শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত সারাদেশে অবরোধ কর্মসূচি পালিত হবে। এটি হবে আমাদের অবরোধ কর্মসূচির পঞ্চম ধাপ। গণমাধ্যম ও সংবাদপত্রের গাড়ি, জরুরি সেবায় নিয়োজিত অ্যাম্বুলেন্স ও অক্সিজেন সিলিন্ডার বহনকারী গাড়ি অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে।’

এর আগে চার দফায় ১৯৬ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি।

একই দিন জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশও অবরোধের ডাক দেয়। এক বিবৃতিতে দলটির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম বলেন, সরকারের পদত্যাগ, নির্বাচনকালীন কেয়ারটেকার সরকার গঠন, আমির জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানসহ সব রাজবন্দি এবং ওলামা-মাশায়েখের মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং দ্রব্যমূল্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসার দাবিতে আমি জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আগামী ১৫ নভেম্বর ভোর ৬টা থেকে শুরু হয়ে ১৭ নভেম্বর ভোর ৬টা পর্যন্ত সারাদেশে টানা ৪৮ ঘণ্টা শান্তিপূর্ণ সড়ক, রেল ও নৌপথ অবরোধের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করছি।