ঢাকা ০৪:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

নিজেদের অবস্থান ছেড়ে পালাচ্ছে ইউক্রেনের সেনারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:৫২:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মার্চ ২০২৪
  • / ৩৪৯ বার পড়া হয়েছে
৭১ নিউজ বিডির সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত দুর্বল হচ্ছে ইউক্রেন। একটু একটু করে রুশ সেনারা দখল করে নিচ্ছে বিভিন্ন এলাকা। অন্যদিকে, সমরাস্ত্র আর সেনা সংকটে পিছিয়ে যেতে হচ্ছে ইউক্রেনকে। আকাশপথে তো পুরোপুরি রাশিয়ার আধিপত্যই চলছে।

গেল সপ্তাহের পুরোটাই নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পেতে হিমশিম খেয়েছে ইউক্রেন। এরমধ্যেই দেশটির পূর্বাঞ্চলে সেনা সক্ষমতা বাড়িয়ে আভদিভকা দখলে নিয়েছে মস্কো। সম্মুখসারির পুরো ১ হাজার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পারছে না কিয়েভ। আভদিভকার পর অঞ্চলটির পশ্চিমের তিন কিলোমিটার বিস্তৃত কয়েকটি গ্রাম থেকেও সেনা সরিয়ে নিয়েছে ইউক্রেন। কয়েকদিন পর আরও কিছু গ্রাম থেকে সেনা প্রত্যাহার করেছে ইউক্রেন।

দেশটির সেনাবাহিনী বলছে, সেসব স্থানে রুশ সেনাদের প্রবেশ করতে দেখা গেছে। রুশ বাহিনী নিজেদের সেনা সক্ষমতা আর হামলা বাড়িয়েছে। সেনাবাহিনীকে ইউনিট থেকে স্কোয়াড, এরপর প্লাটুন আর কোম্পানিতে উন্নীত করেছে মস্কো। একেকটি স্কোয়াডে কয়েকজন সেনা থাকে, প্লাটুনে থাকে ৫০ জন আর কোম্পানিতে থাকে ২শ’ জন।

বাখমুতের পশ্চিমাঞ্চলেও সেনা সক্ষমতা বাড়িয়েছে রাশিয়া, এই শহর মে মাসে দখলে নিয়েছিলো মস্কো। রাশিয়ার দাবি, জাপোরিঝিয়ার পশ্চিমে ইউক্রেনের দখল করা রোবোটাইন গ্রাম পুনর্দখল করেছে তারা। খেরসনের নিপ্রো নদীর কাছে একটি গ্রাম দখলের পথে মস্কো। এভাবেই একটু একটু করে নিজ দেশের দখল হারাচ্ছে জেলেনস্কি প্রশাসন।

স্থানীয়ভাবে আকাশপথে শক্ত অবস্থান আর গ্লাইড বোমা থাকার কারণে খুব সহজেই আভদিভকা দখলে নিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, নতুন বছরে ইউক্রেনে ৩ হাজার ২শ’ গ্লাইড বোমা ফেলেছে রাশিয়া। রুশ হামলা প্রতিহত করতে পারলেও সেই পরিসর খুব সীমিত।

রাশিয়া শত্রুপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জানতে ব্যবহার করছে এ ফিফটি বিমান। এই বিমানের অবশিষ্ট আর ৬টি আছে রাশিয়ার কাছে। যদিও এই বিমানগুলো ইউক্রেনের লক্ষ্যবস্তু, কিন্তু হামলার হার সীমিত। রাশিয়া এই বিমান বানিয়েছে ৪০ টা, যেখানে চালকদের প্রশিক্ষণ দিতেই লাগে বছরের পর বছর। তবে বিমানগুলো ইউক্রেনের এফ সিক্সটির ভূপাতিত করতে তৎপর।

এদিকে, এই সংকটের মধ্যে ইউক্রেনের জন্য ২২ হাজার কোটি ডলারের ১৫ হাজার রাউন্ড গোলাবারুদ সরবরাহের অনুমোদন দিয়েছে ডেনমার্ক। জার্মানি দিচ্ছে ১৪ হাজার আর্টিলারি রাউন্ড আর ড্রোন। ফ্রান্স আর ব্রিটেন ইউক্রেনকে দিয়েছে স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র, যার গতিবেগ ১শ’ ৪০ কিলোমিটার। যুক্তরাষ্ট্র দিচ্ছে ৩শ’ কিলোমিটার গতিবেগের আতাসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্র। যদিও ইউক্রেন বলছে, তারা নিজেরাই তৈরি করেছে ৭শ’ কিলোমিটার গতিবেগের ক্ষেপণাস্ত্র। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এরপরও অনিশ্চিত রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের যুদ্ধে জয়ের সম্ভাবনা।

নিউজটি শেয়ার করুন

নিজেদের অবস্থান ছেড়ে পালাচ্ছে ইউক্রেনের সেনারা

আপডেট সময় : ০৩:৫২:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মার্চ ২০২৪

যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত দুর্বল হচ্ছে ইউক্রেন। একটু একটু করে রুশ সেনারা দখল করে নিচ্ছে বিভিন্ন এলাকা। অন্যদিকে, সমরাস্ত্র আর সেনা সংকটে পিছিয়ে যেতে হচ্ছে ইউক্রেনকে। আকাশপথে তো পুরোপুরি রাশিয়ার আধিপত্যই চলছে।

গেল সপ্তাহের পুরোটাই নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পেতে হিমশিম খেয়েছে ইউক্রেন। এরমধ্যেই দেশটির পূর্বাঞ্চলে সেনা সক্ষমতা বাড়িয়ে আভদিভকা দখলে নিয়েছে মস্কো। সম্মুখসারির পুরো ১ হাজার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পারছে না কিয়েভ। আভদিভকার পর অঞ্চলটির পশ্চিমের তিন কিলোমিটার বিস্তৃত কয়েকটি গ্রাম থেকেও সেনা সরিয়ে নিয়েছে ইউক্রেন। কয়েকদিন পর আরও কিছু গ্রাম থেকে সেনা প্রত্যাহার করেছে ইউক্রেন।

দেশটির সেনাবাহিনী বলছে, সেসব স্থানে রুশ সেনাদের প্রবেশ করতে দেখা গেছে। রুশ বাহিনী নিজেদের সেনা সক্ষমতা আর হামলা বাড়িয়েছে। সেনাবাহিনীকে ইউনিট থেকে স্কোয়াড, এরপর প্লাটুন আর কোম্পানিতে উন্নীত করেছে মস্কো। একেকটি স্কোয়াডে কয়েকজন সেনা থাকে, প্লাটুনে থাকে ৫০ জন আর কোম্পানিতে থাকে ২শ’ জন।

বাখমুতের পশ্চিমাঞ্চলেও সেনা সক্ষমতা বাড়িয়েছে রাশিয়া, এই শহর মে মাসে দখলে নিয়েছিলো মস্কো। রাশিয়ার দাবি, জাপোরিঝিয়ার পশ্চিমে ইউক্রেনের দখল করা রোবোটাইন গ্রাম পুনর্দখল করেছে তারা। খেরসনের নিপ্রো নদীর কাছে একটি গ্রাম দখলের পথে মস্কো। এভাবেই একটু একটু করে নিজ দেশের দখল হারাচ্ছে জেলেনস্কি প্রশাসন।

স্থানীয়ভাবে আকাশপথে শক্ত অবস্থান আর গ্লাইড বোমা থাকার কারণে খুব সহজেই আভদিভকা দখলে নিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, নতুন বছরে ইউক্রেনে ৩ হাজার ২শ’ গ্লাইড বোমা ফেলেছে রাশিয়া। রুশ হামলা প্রতিহত করতে পারলেও সেই পরিসর খুব সীমিত।

রাশিয়া শত্রুপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জানতে ব্যবহার করছে এ ফিফটি বিমান। এই বিমানের অবশিষ্ট আর ৬টি আছে রাশিয়ার কাছে। যদিও এই বিমানগুলো ইউক্রেনের লক্ষ্যবস্তু, কিন্তু হামলার হার সীমিত। রাশিয়া এই বিমান বানিয়েছে ৪০ টা, যেখানে চালকদের প্রশিক্ষণ দিতেই লাগে বছরের পর বছর। তবে বিমানগুলো ইউক্রেনের এফ সিক্সটির ভূপাতিত করতে তৎপর।

এদিকে, এই সংকটের মধ্যে ইউক্রেনের জন্য ২২ হাজার কোটি ডলারের ১৫ হাজার রাউন্ড গোলাবারুদ সরবরাহের অনুমোদন দিয়েছে ডেনমার্ক। জার্মানি দিচ্ছে ১৪ হাজার আর্টিলারি রাউন্ড আর ড্রোন। ফ্রান্স আর ব্রিটেন ইউক্রেনকে দিয়েছে স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র, যার গতিবেগ ১শ’ ৪০ কিলোমিটার। যুক্তরাষ্ট্র দিচ্ছে ৩শ’ কিলোমিটার গতিবেগের আতাসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্র। যদিও ইউক্রেন বলছে, তারা নিজেরাই তৈরি করেছে ৭শ’ কিলোমিটার গতিবেগের ক্ষেপণাস্ত্র। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এরপরও অনিশ্চিত রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের যুদ্ধে জয়ের সম্ভাবনা।