০৪:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আজ থেকে বন্ধ হলো মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

গতকাল মধ্যরাত (১লা জুন) থেকে বাংলাদেশসহ ১৪টি সোর্স কান্ট্রির কোনো কর্মী আর ঢুকতে পারছে না মালয়েশিয়ায়। হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানায়, আপাতত শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ করে দেওয়ায় গত কয়েক দিনে মালয়েশিয়ায় গেছেন হাজার হাজার শ্রমিক। এর মধ্যে বেশিরভাগই বাংলাদেশি।

সংবাদমাধ্যমটিকে শ্রমিক অধিকার কর্মীরা বলেছেন, দালালরা ভুয়া চাকরির লোভ দেখিয়ে বাংলাদেশি শ্রমিকদের মালয়েশিয়ায় নিয়ে আসত। শুধু এ কারণে মালয়েশিয়া শ্রমবাজার বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। তবে এ দালাল এবং প্রতারকদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হয়নি। ফলে গত কয়েক দিনে যেসব বাংলাদেশি শ্রমিক তাড়াহুড়া করে মালয়েশিয়ায় গেছেন তারা প্রতারণার শিকার হতে পারেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অধিকার কর্মীরা।

অ্যান্ডি হল নামের এক অধিকার কর্মী বলেছেন, ‘এই শ্রমিকদের বেশিরভাগই আধুনিক দাসত্বের ঝুঁকিতে রয়েছেন। এসব শ্রমিক অবশ্যই ভুয়া চাকরিদাতা এবং ভুয়া চাকরির প্রতারণা ফাঁদে পা দিয়ে এসেছেন। যেগুলোর ব্যবস্থা করেছে দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তা, এজেন্সি এবং দালালরা।’

এদিকে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুই হয় ঘুষ দিয়ে বলে অভিযোগ করেছেন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা। উভয় সরকারের কাছে এ বিষয়ে তদন্ত, অপরাধীদের বিচার এবং নৈতিক নিয়োগের নীতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন তারা।

জাতিসংঘের চারজন স্বাধীন বিশেষজ্ঞের পাঠানো একটি চিঠিতে বলা হয়েছে, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরুই হয় দেশটির মানব সম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ঘুষ দেওয়ার মাধ্যমে। এই ঘুষ দিতে হয় ‘ভুয়া নিয়োগকর্তাদের জাল কোটা’ পাওয়ার জন্য।

চিঠিতে বলা হয়, ‘পরবর্তী সময়ে নিয়োগের অনুমোদন নিতে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি হাইকমিশন এবং বাংলাদেশি সিন্ডিকেট এজেন্টদের পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। প্রবাসী কর্মীরা অভিবাসনের জন্য সিন্ডিকেটের কাছে উড়োজাহাজ ভাড়া, পাসপোর্ট ও ভিসার খরচ ছাড়াও প্রকৃত নিয়োগ খরচের চেয়ে অনেক বেশি ফি দিয়ে থাকেন।’

গত ২৮ মার্চ বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ায় পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, অভিবাসীদের প্রতারিত করা হচ্ছে এবং জনপ্রতি সাড়ে চার থেকে ছয় হাজার ডলার পর্যন্ত নিয়োগ ফি নেওয়া হচ্ছে। যা ২০২১ সালে এই দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) খেলাফ। ওই এমওইউ অনুযায়ী, এই ফি হবে ৭২০ ডলার পর্যন্ত।

চিঠিতে লেখা হয়েছে, ‘মালয়েশিয়ায় কাজ করতে ইচ্ছুক বাংলাদেশি অভিবাসীরা বিশ্বব্যাপী সর্বোচ্চ নিয়োগ ফি প্রদান করেন, যা বাজারে প্রচলিত হারের চেয়ে অনেক বেশি।’

গত ২৮ মার্চের চিঠিটি জাতিসংঘের হাইকমিশনার ফর হিউম্যান রাইটস (ওএইচসিএইচআর) প্রকাশ করে ২৬ মে। এটি প্রকাশ করার কারণ হচ্ছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সরকার চিঠিটি দেওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে এর জবাব দেয়নি।

জাতিসংঘের যে বিশেষজ্ঞরা চিঠিটি লিখেছেন, তারা হলেন-টোমোয়া ওবোকাটা, রবার্ট ম্যাককরকোডালে, গেহাদ মাদি এবং সিওবান মুল্লালি। ৬০ দিন পরও কোনো সরকারের কাছ থেকে যেকোনো জবাব পাওয়া গেলে তা মানবাধিকার কাউন্সিলে উপস্থাপন করা হবে।

২০২২ সালের আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত মালয়েশিয়া সরকার নির্বাচিত ১০০টি বাংলাদেশি নিয়োগকারী সংস্থার একটি সিন্ডিকেটের অধীনে চাকরির জন্য মালয়েশিয়ায় গেছেন প্রায় ৪ লাখ ২২ হাজার বাংলাদেশি। এর আগে সেখানে আরও ৪ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত ছিলেন।

স্বাধীন গবেষকরা বলছেন, মালয়েশিয়ায় এক থেকে দুই লাখ বাংলাদেশি এখন বেকার, বিনা বেতন বা কম বেতনে কর্মরত এবং ঋণগ্রস্ত।

আজ থেকে বন্ধ হলো মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

আপডেট : ১২:২৯:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ জুন ২০২৪

গতকাল মধ্যরাত (১লা জুন) থেকে বাংলাদেশসহ ১৪টি সোর্স কান্ট্রির কোনো কর্মী আর ঢুকতে পারছে না মালয়েশিয়ায়। হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানায়, আপাতত শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ করে দেওয়ায় গত কয়েক দিনে মালয়েশিয়ায় গেছেন হাজার হাজার শ্রমিক। এর মধ্যে বেশিরভাগই বাংলাদেশি।

সংবাদমাধ্যমটিকে শ্রমিক অধিকার কর্মীরা বলেছেন, দালালরা ভুয়া চাকরির লোভ দেখিয়ে বাংলাদেশি শ্রমিকদের মালয়েশিয়ায় নিয়ে আসত। শুধু এ কারণে মালয়েশিয়া শ্রমবাজার বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। তবে এ দালাল এবং প্রতারকদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হয়নি। ফলে গত কয়েক দিনে যেসব বাংলাদেশি শ্রমিক তাড়াহুড়া করে মালয়েশিয়ায় গেছেন তারা প্রতারণার শিকার হতে পারেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অধিকার কর্মীরা।

অ্যান্ডি হল নামের এক অধিকার কর্মী বলেছেন, ‘এই শ্রমিকদের বেশিরভাগই আধুনিক দাসত্বের ঝুঁকিতে রয়েছেন। এসব শ্রমিক অবশ্যই ভুয়া চাকরিদাতা এবং ভুয়া চাকরির প্রতারণা ফাঁদে পা দিয়ে এসেছেন। যেগুলোর ব্যবস্থা করেছে দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তা, এজেন্সি এবং দালালরা।’

এদিকে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুই হয় ঘুষ দিয়ে বলে অভিযোগ করেছেন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা। উভয় সরকারের কাছে এ বিষয়ে তদন্ত, অপরাধীদের বিচার এবং নৈতিক নিয়োগের নীতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন তারা।

জাতিসংঘের চারজন স্বাধীন বিশেষজ্ঞের পাঠানো একটি চিঠিতে বলা হয়েছে, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরুই হয় দেশটির মানব সম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ঘুষ দেওয়ার মাধ্যমে। এই ঘুষ দিতে হয় ‘ভুয়া নিয়োগকর্তাদের জাল কোটা’ পাওয়ার জন্য।

চিঠিতে বলা হয়, ‘পরবর্তী সময়ে নিয়োগের অনুমোদন নিতে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি হাইকমিশন এবং বাংলাদেশি সিন্ডিকেট এজেন্টদের পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। প্রবাসী কর্মীরা অভিবাসনের জন্য সিন্ডিকেটের কাছে উড়োজাহাজ ভাড়া, পাসপোর্ট ও ভিসার খরচ ছাড়াও প্রকৃত নিয়োগ খরচের চেয়ে অনেক বেশি ফি দিয়ে থাকেন।’

গত ২৮ মার্চ বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ায় পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, অভিবাসীদের প্রতারিত করা হচ্ছে এবং জনপ্রতি সাড়ে চার থেকে ছয় হাজার ডলার পর্যন্ত নিয়োগ ফি নেওয়া হচ্ছে। যা ২০২১ সালে এই দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) খেলাফ। ওই এমওইউ অনুযায়ী, এই ফি হবে ৭২০ ডলার পর্যন্ত।

চিঠিতে লেখা হয়েছে, ‘মালয়েশিয়ায় কাজ করতে ইচ্ছুক বাংলাদেশি অভিবাসীরা বিশ্বব্যাপী সর্বোচ্চ নিয়োগ ফি প্রদান করেন, যা বাজারে প্রচলিত হারের চেয়ে অনেক বেশি।’

গত ২৮ মার্চের চিঠিটি জাতিসংঘের হাইকমিশনার ফর হিউম্যান রাইটস (ওএইচসিএইচআর) প্রকাশ করে ২৬ মে। এটি প্রকাশ করার কারণ হচ্ছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সরকার চিঠিটি দেওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে এর জবাব দেয়নি।

জাতিসংঘের যে বিশেষজ্ঞরা চিঠিটি লিখেছেন, তারা হলেন-টোমোয়া ওবোকাটা, রবার্ট ম্যাককরকোডালে, গেহাদ মাদি এবং সিওবান মুল্লালি। ৬০ দিন পরও কোনো সরকারের কাছ থেকে যেকোনো জবাব পাওয়া গেলে তা মানবাধিকার কাউন্সিলে উপস্থাপন করা হবে।

২০২২ সালের আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত মালয়েশিয়া সরকার নির্বাচিত ১০০টি বাংলাদেশি নিয়োগকারী সংস্থার একটি সিন্ডিকেটের অধীনে চাকরির জন্য মালয়েশিয়ায় গেছেন প্রায় ৪ লাখ ২২ হাজার বাংলাদেশি। এর আগে সেখানে আরও ৪ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত ছিলেন।

স্বাধীন গবেষকরা বলছেন, মালয়েশিয়ায় এক থেকে দুই লাখ বাংলাদেশি এখন বেকার, বিনা বেতন বা কম বেতনে কর্মরত এবং ঋণগ্রস্ত।