০৪:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মালয়েশিয়ার স্বপ্ন ভাঙলো ৩০ হাজার বাংলাদেশির

ভিনদেশী শ্রমিকদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার শুক্রবার মধ্যরাতের পর বন্ধ হয়ে গেছে। শেষ দিনে দেশটিতে যাওয়ার জন্য সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হাজার হাজার বাংলাদেশী কর্মী ভিড় জমান। তবে টিকিট না পাওয়ায় যেতে পারেননি অনেকে। শেষ ফ্লাইটের সময় পার হলেও অনেকই মধ্যরাত পর্যন্ত অপেক্ষা করে হতাশা নিয়ে বাড়ি ফিরে যান।

শুক্রবার রাতে কর্মী বোঝাই শেষ ফ্লাইটটিও মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে চলে গেছে। আর কোন ফ্লাইট ছাড়ার আশা নেই। তারপরও মধ্যরাতেও বিমানবন্দরে বসে আছে এসব মানুষ। চোখে হতাশার জল নিয়ে টিকিট পাওয়ার আশায় অপেক্ষা করেন তারা। কিন্তু, এক সময় কোনো উপায় না দেখে, রাগ এবং ভাঙ্গা মন নিয়ে ছলছল চোখে বাড়ির পথে ফিরে যার দূরদুরান্ত থেকে আশা এসব মানুষ।

ভুক্তভোগীদের মধ্যে একজন জানান, টিকিট দেওয়ার জন্য তাঁর কাছ থেকে আগে টাকা নেওয়ার পরও বৃহস্পতিবার রাতে আরও ৩০ হাজার টাকা নেয় এজেন্সির কর্মীরা। রাতে তিনি টিকিট পেলেও সকালে এয়ারপোর্টে পৌঁছে জানতে পারেন, টিকিট ক্যানসেল হয়ে গেছে।

আরেক ভুক্তভোগী বলেন, ‘সকালে এয়ারপোর্টে আসার পর এয়ারলাইনস কর্মকর্তারা তাঁকে জানান তিনি যে এজেন্সির কাছে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য টাকা জমা দিয়েছিলেন তিনিসহ আরও দশ জনের মোট ১০ লাখ ৬০ হাজার টাকা তারা দেয়নি। এ কারণে তাদের দশ জনের টিকিট ক্যানসেল করা হয়েছে।’

এজেন্সির প্রতারণার শিকার কোনো কোনো কর্মী দুইবার টিকিট কিনলেও পাননি ফ্লাইট। শেষ সময়ে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্রের জটিলতায় ফ্লাইট আটকে গেছে অনেকের।

এক ভুক্তভোগী জানান, টিকিট নিয়ে এয়ারপোর্টে এলেও বিএমইটির জটিলতার কারণে তাঁর টিকিট দিয়ে যাত্রা সম্ভব হয়নি।

এর আগে মালয়েশিয়া কর্মী ভিসা পাওয়া ব্যক্তিদের শুক্রবারের মধ্যে প্রবেশের সময়সীমা বেঁধে দেয় দেশটির সরকার। শেষ সময়ে এসে কয়েক হাজার শ্রমিক নিয়োগ দেয় নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। তাই, ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুক্রবার সকাল থেকে ভিড় করেন কয়েক হাজার যাত্রী। তাদের অভিযোগ, মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য সরকার-নির্ধারিত ফি’র চাইতে কয়েকগুণ বেশি ফি দিতে হয়েছে এজেন্সিগুলোকে। পাশাপাশি উড়োজাহাজের টিকিটের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দামও রাখা হয়েছে কয়েকগুণ বেশি। কিন্তু শেষ সময়ে এসেও অনেকে টিকিট পায়নি।

শুক্রবার ৯টি নিয়মিত ফ্লাইটের পাশাপাশি কুয়ালালামপুরগামী বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বিশেষ আরও একটি ফ্লাইট পরিচালনা করে বিমান। সবমিলিয়ে ১ থেকে দেড় হাজার কর্মী মালয়েশিয়ায় যেতে পেরেছেন। অন্যরা ভাঙ্গা মন নিয়ে ফিরে যান অনিশ্চিত জীবনের পথে।

এদিকে, জনশক্তি খাতে হয়রানির অভিযোগে মালয়েশিয়ার ৪৭ নিয়োগদাতার লাইসেন্স স্থগিত করেছে দেশটির সরকার। শুক্রবার (৩১ মে) মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বিষয়টি জানানো হয়। অন্যদিকে, শেষ মুহূর্তে মালয়েশিয়াগামী ৩০ হাজার কর্মীর ভাগ্য ঝুলে গেছে ঢাকা ও কুয়ালালামপুর এয়ারপোর্টে। শুক্রবারের পর আর কর্মী না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটি।

করোনা মহামারি শেষে ২০২২ সালে ফের শ্রমবাজার চালুর পর মালয়েশিয়ায় গেছেন প্রায় ৫ লাখ বাংলাদেশি কর্মী। তবে কর্মী কোটা পূরণ হয়ে যাওয়ায় ভিসা কিংবা ছাড়পত্র থাকলেও আজকের পর (৩১ মে) আর কোনো কর্মী দেশটিতে ঢুকতে পারবে না।

মালয়েশিয়ার স্বপ্ন ভাঙলো ৩০ হাজার বাংলাদেশির

আপডেট : ১২:৩৮:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ জুন ২০২৪

ভিনদেশী শ্রমিকদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার শুক্রবার মধ্যরাতের পর বন্ধ হয়ে গেছে। শেষ দিনে দেশটিতে যাওয়ার জন্য সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হাজার হাজার বাংলাদেশী কর্মী ভিড় জমান। তবে টিকিট না পাওয়ায় যেতে পারেননি অনেকে। শেষ ফ্লাইটের সময় পার হলেও অনেকই মধ্যরাত পর্যন্ত অপেক্ষা করে হতাশা নিয়ে বাড়ি ফিরে যান।

শুক্রবার রাতে কর্মী বোঝাই শেষ ফ্লাইটটিও মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে চলে গেছে। আর কোন ফ্লাইট ছাড়ার আশা নেই। তারপরও মধ্যরাতেও বিমানবন্দরে বসে আছে এসব মানুষ। চোখে হতাশার জল নিয়ে টিকিট পাওয়ার আশায় অপেক্ষা করেন তারা। কিন্তু, এক সময় কোনো উপায় না দেখে, রাগ এবং ভাঙ্গা মন নিয়ে ছলছল চোখে বাড়ির পথে ফিরে যার দূরদুরান্ত থেকে আশা এসব মানুষ।

ভুক্তভোগীদের মধ্যে একজন জানান, টিকিট দেওয়ার জন্য তাঁর কাছ থেকে আগে টাকা নেওয়ার পরও বৃহস্পতিবার রাতে আরও ৩০ হাজার টাকা নেয় এজেন্সির কর্মীরা। রাতে তিনি টিকিট পেলেও সকালে এয়ারপোর্টে পৌঁছে জানতে পারেন, টিকিট ক্যানসেল হয়ে গেছে।

আরেক ভুক্তভোগী বলেন, ‘সকালে এয়ারপোর্টে আসার পর এয়ারলাইনস কর্মকর্তারা তাঁকে জানান তিনি যে এজেন্সির কাছে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য টাকা জমা দিয়েছিলেন তিনিসহ আরও দশ জনের মোট ১০ লাখ ৬০ হাজার টাকা তারা দেয়নি। এ কারণে তাদের দশ জনের টিকিট ক্যানসেল করা হয়েছে।’

এজেন্সির প্রতারণার শিকার কোনো কোনো কর্মী দুইবার টিকিট কিনলেও পাননি ফ্লাইট। শেষ সময়ে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্রের জটিলতায় ফ্লাইট আটকে গেছে অনেকের।

এক ভুক্তভোগী জানান, টিকিট নিয়ে এয়ারপোর্টে এলেও বিএমইটির জটিলতার কারণে তাঁর টিকিট দিয়ে যাত্রা সম্ভব হয়নি।

এর আগে মালয়েশিয়া কর্মী ভিসা পাওয়া ব্যক্তিদের শুক্রবারের মধ্যে প্রবেশের সময়সীমা বেঁধে দেয় দেশটির সরকার। শেষ সময়ে এসে কয়েক হাজার শ্রমিক নিয়োগ দেয় নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। তাই, ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুক্রবার সকাল থেকে ভিড় করেন কয়েক হাজার যাত্রী। তাদের অভিযোগ, মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য সরকার-নির্ধারিত ফি’র চাইতে কয়েকগুণ বেশি ফি দিতে হয়েছে এজেন্সিগুলোকে। পাশাপাশি উড়োজাহাজের টিকিটের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দামও রাখা হয়েছে কয়েকগুণ বেশি। কিন্তু শেষ সময়ে এসেও অনেকে টিকিট পায়নি।

শুক্রবার ৯টি নিয়মিত ফ্লাইটের পাশাপাশি কুয়ালালামপুরগামী বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বিশেষ আরও একটি ফ্লাইট পরিচালনা করে বিমান। সবমিলিয়ে ১ থেকে দেড় হাজার কর্মী মালয়েশিয়ায় যেতে পেরেছেন। অন্যরা ভাঙ্গা মন নিয়ে ফিরে যান অনিশ্চিত জীবনের পথে।

এদিকে, জনশক্তি খাতে হয়রানির অভিযোগে মালয়েশিয়ার ৪৭ নিয়োগদাতার লাইসেন্স স্থগিত করেছে দেশটির সরকার। শুক্রবার (৩১ মে) মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বিষয়টি জানানো হয়। অন্যদিকে, শেষ মুহূর্তে মালয়েশিয়াগামী ৩০ হাজার কর্মীর ভাগ্য ঝুলে গেছে ঢাকা ও কুয়ালালামপুর এয়ারপোর্টে। শুক্রবারের পর আর কর্মী না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটি।

করোনা মহামারি শেষে ২০২২ সালে ফের শ্রমবাজার চালুর পর মালয়েশিয়ায় গেছেন প্রায় ৫ লাখ বাংলাদেশি কর্মী। তবে কর্মী কোটা পূরণ হয়ে যাওয়ায় ভিসা কিংবা ছাড়পত্র থাকলেও আজকের পর (৩১ মে) আর কোনো কর্মী দেশটিতে ঢুকতে পারবে না।