ঢাকা ০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৫, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

ভারত আমাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেছে: ট্রুডো

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৪৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৪
  • / ৩৬৯ বার পড়া হয়েছে
৭১ নিউজ বিডির সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কানাডায় খালিস্তানপন্থি শিখ নেতা হরদীপ সিং নিজ্জার হত্যা মামলায় ভারতীয় হাইকমিশনার সঞ্জয়কুমার বর্মাকে ‘স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি’ বলে উল্লেখ করেছে কানাডা। এতে চরম প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে ভারত সরকার কানাডার ৬ কূটনীতিককে গতকাল বহিষ্কার করেছে। একই দিন ভারত সরকার কানাডা থেকে তার হাইকমিশনার ও অন্যান্য কূটনীতিক ও কর্মকর্তাদেরও প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে।

এসব ঘটনার মধ্যে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘হরদীপ সিং হত্যা সম্পর্কে তদন্তে আমরা যা জানতে পেরেছি, তা সবই ভারতকে জানিয়েছি। আমি সরাসরি ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছি। কিন্তু ভারত সরকার সবকিছু অস্বীকার করেছে, আমাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেছে এবং কানাডা সরকারের সততাকে আক্রমণ করেছে।’

ট্রুডো অভিযোগ করে বলেন, ‘সুষ্ঠু তদন্তের প্রয়োজনে কানাডার কর্মকর্তারা একাধিকবার ভারত সরকারের সহযোগিতা চেয়েছিল, কিন্তু ভারত কোনও সহযোগিতা করেনি। এতে আমাদের তদন্ত বাধাগ্রস্ত হয়েছে।’

ট্রুডো জানান, এই সপ্তাহে আমাদের কর্মকর্তারা ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং নিজ্জার হত্যার সঙ্গে ভারতীয় ছয়জন এজেন্ট জড়িত থাকার কথা জানিয়েছেন।

কানাডা ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক ফাটল তৈরি করতে চায়নি বলেও মন্তব্য করেন ট্রুডো। তিনি বলেন, ‘ভারত ও কানাডা দুই দেশের মানুষের মধ্যেই ঐতিহাসিকভাবে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে।’

নিজ্জার হত্যা মামলার তদন্তে সহযোগিতা করার জন্য আবারও ভারতের প্রতি আহ্বান জানান জাস্টিন ট্রুডো। তিনি বলেন, বাব্যসা, বাণিজ্য, শিক্ষাসহ নানা বিষয়ে ভারতের সঙ্গে কানাডার মানুষের দীর্ঘ সময়ের সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কানাডার নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া আমার প্রধান দায়িত্ব।’

২০২৩ সালের ১৮ জুন কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়ার সারেতে খুন হন নিজ্জার। এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ভারত জড়িত বলে অভিযোগ করে কানাডা। যদিও ভারতের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়।

নিজ্জার খুনে জড়িত সন্দেহে কয়েকজন ভারতীয় এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে কানাডা পুলিশের ইন্টিগ্রেটেড হোমিসাইড ইনভেস্টিগেশন টিম (আইএইচআইটি)। এরপর চলতি বছরের এপ্রিলে কানাডার নিরাপত্তা বিষয়ক গোয়েন্দা সংস্থা (সিএসআইএস) তদন্ত রিপোর্টের একটি অংশ প্রকাশ করে। তাতে দাবি করা হয়, ২০১৯ ও ২০২১-এর সাধারণ নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পাকিস্তান ও ভারত গোপনে সক্রিয় ছিল।

নিউজটি শেয়ার করুন

ভারত আমাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেছে: ট্রুডো

আপডেট সময় : ১১:৪৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৪

কানাডায় খালিস্তানপন্থি শিখ নেতা হরদীপ সিং নিজ্জার হত্যা মামলায় ভারতীয় হাইকমিশনার সঞ্জয়কুমার বর্মাকে ‘স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি’ বলে উল্লেখ করেছে কানাডা। এতে চরম প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে ভারত সরকার কানাডার ৬ কূটনীতিককে গতকাল বহিষ্কার করেছে। একই দিন ভারত সরকার কানাডা থেকে তার হাইকমিশনার ও অন্যান্য কূটনীতিক ও কর্মকর্তাদেরও প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে।

এসব ঘটনার মধ্যে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘হরদীপ সিং হত্যা সম্পর্কে তদন্তে আমরা যা জানতে পেরেছি, তা সবই ভারতকে জানিয়েছি। আমি সরাসরি ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছি। কিন্তু ভারত সরকার সবকিছু অস্বীকার করেছে, আমাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেছে এবং কানাডা সরকারের সততাকে আক্রমণ করেছে।’

ট্রুডো অভিযোগ করে বলেন, ‘সুষ্ঠু তদন্তের প্রয়োজনে কানাডার কর্মকর্তারা একাধিকবার ভারত সরকারের সহযোগিতা চেয়েছিল, কিন্তু ভারত কোনও সহযোগিতা করেনি। এতে আমাদের তদন্ত বাধাগ্রস্ত হয়েছে।’

ট্রুডো জানান, এই সপ্তাহে আমাদের কর্মকর্তারা ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং নিজ্জার হত্যার সঙ্গে ভারতীয় ছয়জন এজেন্ট জড়িত থাকার কথা জানিয়েছেন।

কানাডা ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক ফাটল তৈরি করতে চায়নি বলেও মন্তব্য করেন ট্রুডো। তিনি বলেন, ‘ভারত ও কানাডা দুই দেশের মানুষের মধ্যেই ঐতিহাসিকভাবে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে।’

নিজ্জার হত্যা মামলার তদন্তে সহযোগিতা করার জন্য আবারও ভারতের প্রতি আহ্বান জানান জাস্টিন ট্রুডো। তিনি বলেন, বাব্যসা, বাণিজ্য, শিক্ষাসহ নানা বিষয়ে ভারতের সঙ্গে কানাডার মানুষের দীর্ঘ সময়ের সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কানাডার নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া আমার প্রধান দায়িত্ব।’

২০২৩ সালের ১৮ জুন কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়ার সারেতে খুন হন নিজ্জার। এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ভারত জড়িত বলে অভিযোগ করে কানাডা। যদিও ভারতের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়।

নিজ্জার খুনে জড়িত সন্দেহে কয়েকজন ভারতীয় এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে কানাডা পুলিশের ইন্টিগ্রেটেড হোমিসাইড ইনভেস্টিগেশন টিম (আইএইচআইটি)। এরপর চলতি বছরের এপ্রিলে কানাডার নিরাপত্তা বিষয়ক গোয়েন্দা সংস্থা (সিএসআইএস) তদন্ত রিপোর্টের একটি অংশ প্রকাশ করে। তাতে দাবি করা হয়, ২০১৯ ও ২০২১-এর সাধারণ নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পাকিস্তান ও ভারত গোপনে সক্রিয় ছিল।