কুয়াশার চাদরে মোড়া সকাল, বাড়ছে শীতবস্ত্র কেনাবেচা
- আপডেট সময় : ১১:৩২:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৪
- / ৩৬৩ বার পড়া হয়েছে
জাদুর শহরে শীত এসেছে তার চিরচেনা স্নিগ্ধ রূপ নিয়ে। কুয়াশার চাদরে মোড়া সকালের অলিগলিতে লেপ-তোষকের উষ্ণতা আর পিঠার মিষ্টি গন্ধ। সকাল বেলার আলো ম্লান হয়ে উঠেছে, বিকেলের রোদ পিছু হটছে দ্রুত। ছাদে শুকাতে দেয়া কাপড়গুলো যেন বলছে তোমাদের গায়ে লাগার সময় হয়ে এসেছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এ বছর শীত কিছুটা মৃদু হলেও কোল্ড ওয়েভের কারণে বেশি শীত অনুভিত হতে পারে।
উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে টানা তিনদিন ধরে কমছে রাতের তাপমাত্রা। রাতের শুরু থেকে ভোর পর্যন্ত থাকছে কুয়াশা। কুয়াশার কারণে সন্ধ্যার পর থেকে বেশ ঠান্ডা অনুভূত হয়।
আজ শনিবার সকাল ৯টায় রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে তেতুলিয়া আবহাওয়া অফিস। শুক্রবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ দশমিক ৩ ডিগ্রি। দিনের তাপমাত্রা (সর্বোচ্চ) ছিল ২৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়া পর্যবেক্ষক জিতেন্দ্র নাথ রায় বলেন, শনিবার সকাল ৯টায় রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করে তেতুলিয়া আবহাওয়া অফিস।
আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল শাহ্ বলেন, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে কুয়াশা শুরু হয়। ভোরের দিকে ঘন কুয়াশা থাকে। ধীরে ধীরে দিন ও রাতের তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। বাড়তে পারে শীতের তীব্রতা।
ঝলমলে রোদে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শীতের তেমন দুর্ভোগ নেই। তবে সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয় কনকনে শীত। আর সকাল সকাল কাজে যোগ দেওয়া দিনমজুর ও কৃষি শ্রমিকদের দুর্ভোগ বেড়েছে।
এদিকে কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরে রাজধানীর বুড়িগঙ্গার পাড় যেন এক মায়াবী চিত্রকর্ম হয়ে যায়। শীতের শিশিরে ভেজা পথঘাট, প্রকৃতি যেন আরো কিছুক্ষণ ঘুমোতে চায়। শহরের আকাশজুড়ে কুয়াশার ধূসর চাদর, আর গাছে গাছে শিশিরবিন্দু।
শহরের ভোরে জমে থাকা শিশিরের মতোই ধীরে ধীরে শীতের অস্তিত্ব বাড়ছে। লেপ-তোষকের দোকানগুলো এখন শিল্পীর ক্যানভাস। ভেতরে তুলোর স্তর বসিয়ে কারিগররা শীতকে বন্দি করে রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। লেপের প্রতিটা সেলাইরে ফোর যেন উষ্ণতার গল্প বলে।
একজন লেপের কারিগর বলেন, ‘এটা হচ্ছে সিজনাল ব্যবসা। শীতে বেশি হয় আর গরমের মধ্যে কম হয়। আগে লেপটা বেশি চলতো। এখন কম্বল কমফোর্ট আসাতে লেপটা কম চলে।’
শীতবস্ত্রের দোকানে কেবল কাপড় নয়, জমা থাকে মানুষের শীতের স্বপ্ন। নতুন জ্যাকেট আর রঙিন মাফলারে শহরের মানুষ শীতকে আলিঙ্গনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
একজন ক্রেতা বলেন, ‘হালকা শীত পড়ছে। তো সেজন্য হালকা পোশাকই কিনছি। যখন শীতটা বেশি পড়বে তখন একটু ভারি পোশাক নেয়া যাবে।’
শীতের সাথে শহরের প্রিয় খাবারগুলোর সম্পর্ক অনেকটা কবিতার মতো যার প্রতিটা স্তবকেই খাদ্যের স্বাদ । রাজধানীর রাস্তার ধারে চিতই, পাটিসাপটা আর ধোঁয়া ওঠা ভাপা পিঠার গন্ধ যেন শীতের রূপ আও বাড়িয়ে দেয়।
পিঠা খেতে আসা একজন বলেন, ‘গ্রামে যেটা অ্যাভেইলেবল পাওয়া যায় ঢাকা শহরে কিন্তু সব জায়গায় পাওয়া যায় না। শীতের সময়ই শুধু পাওয়া যায়।’
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানাচ্ছে, এ বছর ঢাকায় শীতের তীব্রতা তুলনামূলক মৃদু হলেও কোল্ড ওয়েভের কারণে বেশি শীত অনুভিত হতে পারে । ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির মাঝামাঝি সময় সবচেয়ে ঠান্ডা থাকবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এস.এম কামরুল হাসান বলেন, ‘কোল্ড ওয়েভের ব্যাপারটা আসলে মানুষের অনুভূতি বিবেচনা করলে কিন্তু এবার ঠান্ডার অনুভূতিটা অনেক বাড়বে। এবার আশঙ্কা করছি যে জানুয়ারি মাসে কুয়াশার পরিমাণটা বাড়তে পারে।’
আগমনি শীতের ঠান্ডা শহুরে জীবনে আনে এক নস্টালজিক অনুভূতি। পুরনো শাল, কিংবা নতুন সোয়েটার, সকালের সোনা রোদে ব্যাডমিন্টন খেলা আর সন্ধ্যায় গানের আড্ডা শহরের ছন্দকে নতুন রূপ দেয়। তাইতো শীত কেবল একটি ঋতু নয়, জীবনের হাজারও স্মৃতিমাখা গল্পের একটি অনন্য অধ্যায়।