রাজনৈতিক কোণঠাসা হতে পারেন ট্রাম্প!

- আপডেট সময় : ০২:০৩:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
- / ৩৫০ বার পড়া হয়েছে

প্রশাসনিক ব্যয় কমাতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা ইলন মাস্কের কর্মী ছাঁটাই অভিযানের প্রভাবে জনসমর্থন কমতে পারে ট্রাম্পের। পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসাও হয়ে পড়তে পারেন তিনি। বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, মাস্কের সুনির্দিষ্ট কোনো কর্ম পরিকল্পনা নেই, সোজা কথায় পাগলামি করছেন তিনি। এমনকি এই পুরো বিষয়টিকে রাজনৈতিক অস্থিরতার আলামত হিসেবে বিবেচনা করছেন খোদ রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারাই।
শুল্ক যুদ্ধ ঘোষণা, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্রবিরতি কার্যকরে অতিউৎসাহ কিংবা বিরতিহীনভাবে নির্বাহী আদেশ জারি- এতকিছু করেও সাধারণ মার্কিনিদের আস্থা অর্জনে কতখানি সফল হলেন নবনিযুক্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প- এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। যদিও এরইমধ্যে ট্রাম্পের বহু নির্বাহী আদেশ আটকে দিয়েছেন আদালত। বিনাযুদ্ধে সিনেট বা কংগ্রেসেও সুবিধা করতে পারছেন না রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা।
বিতর্ক আর বিভাজনের আলাপে ট্রাম্পের চেয়েও এককাঠি ওপরে আছেন ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি বা ডজের উপদেষ্টা ধনকুবের ইলন মাস্ক। কখনও সরকারি কর্মচারীদের কাছে কাজের বিবরণ চেয়ে সময় বেঁধে দিচ্ছেন এক সপ্তাহ। আবার কখনও বলছেন, কর্মীদের দক্ষতা পর্যালোচনা করতে ব্যবহার করবেন এআই প্রযুক্তি।
মাস্কের এই গতিবিধিকে পাগলামি ছাড়া আর কিছুই বলতে নারাজ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ। আর ডেমোক্র্যাট শিবিরের বক্তব্য, ইলন মাস্কের প্রশাসনিক ক্ষমতা ও অভিসন্ধি কোনোটাই হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই।
ভাইস প্রেসিডেন্টের অফিসের সাবেক কমিউনিকেশন ডিরেক্টর অ্যাশলি এটিয়েন বলেন, ‘ইলন মাস্কের কীর্তি কলাপ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। একে হালকাভাবে নেয়ারও সুযোগ নেই। ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের অসংখ্য সংবেদনশীল তথ্য তার হাতের নাগালে। সরকারি কর্মকর্তারা আদৌ কাজ করছে কী না তা তিনি নজর রাখছেন। মার্কিন নাগরিকরা এর গভীরতা অনুধাবন করতে পেরেছেন। তারা প্রতিবাদ করছেন।’
প্রশাসনিক ব্যয় কমিয়ে সরকারের অচলাবস্থা ঠেকাবেন- আক্ষরিক অর্থে এই উদ্দেশ্যে ইলন মাস্ককে নিয়োগ দিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু সিএনএন-এসআরএস জরিপ বলছে, ৫৩ শতাংশ নাগরিক ইলন মাস্কের কর্মী ছাঁটাই উদ্যোগকে বাড়াবাড়ির হিসেবে দেখছেন। আর সরকারি প্রোগ্রাম-প্রোজেক্ট বন্ধ করে দেয়ায় বর্তমান প্রশাসনের ওপর চটেছেন জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৫১ শতাংশ মার্কিনি।
রিপাবলিকান সিনেটর লিসা ম্যাকাওয়াস্কি বলেন, ‘কংগ্রেস যখন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সাথে দূরত্ব তৈরি করে বা তাদের দাবি-দাওয়ার তোয়াক্কা করে না, সেই দায়ভার আমাদের ওপরও বর্তায়। আপনি ট্রাম্পকে শতভাগ সমর্থন দিতে পারেন। কিন্তু তারপরেও আপনাদের সরকারি এসব প্রতিষ্ঠানের পাশে দাঁড়ানো উচিত।’
বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, ধনকুবের ইলন মাস্কের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের জেরে প্রশ্নবিদ্ধ হতে যাচ্ছে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অর্জন। একের পর এক হটকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে বাড়াচ্ছেন প্রশাসনিক জটিলতাও। এমনটা চলতে থাকলে, অচিরের রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে বলেও আশঙ্কা বর্ষীয়ান আইন প্রণেতাদের।