ঢাকা ১০:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৫, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

দুই বছরে দেড়শ গ্যাস কূপ বাড়ানোর উদ্যোগ পেট্রোবাংলার

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৯:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • / ৩৪২ বার পড়া হয়েছে
৭১ নিউজ বিডির সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আমদানির দিকে ঝুঁকতে নিজস্ব গ্যাস উত্তোলন করেনি আওয়ামী লীগ সরকার। দেশীয় কোম্পানি বাপেক্সকে বসিয়ে রেখে কূপ খননের কাজ দেয়া হয়েছে বিদেশি কোম্পানিকে। এবার দুই বছরে দেড়শ গ্যাস উত্তোলন কূপ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে পেট্রোবাংলা। পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে খনন যন্ত্রাংশ কেনার। তবে, আধুনিক যন্ত্রাংশ কেনার বিকল্প নেই বলে মত জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের।

দেশে ১৫টি গ্যাসক্ষেত্রের ৭৩টি কূপ উৎপাদনে রয়েছে। ৩টি নিজস্ব কোম্পানি খনি থেকে দৈনিক গড় উত্তোলন করছে সাড়ে সাতশ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।

বিপরীতে বিদেশি কোম্পানি শেভরন একাই উত্তোলন করছে সাড়ে এগারো শ মিলিয়ন ঘনফুট। বাকি সাড়ে ৭শ মিলিয়ন এলএনজি মিলে মোট সক্ষমতা সাড়ে ২৬শ মিলিয়নের কিছু বেশি। গড় ঘাটতি প্রায় দেড় হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।

পেট্রোবাংলা বলছে, গ্যাস উত্তোলন বাড়াতে ওয়ার্কওভার, উন্নয়ন ও অনুসন্ধান মিলে এবছর তারা কূপ খনন করবে ৫১টি। আর আগামী বছর আরও একশটি কূপ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। খননে গতি আনতে, বাড়ানো হচ্ছে বাপেক্সের সক্ষমতা।

দেশীয় বড় কোম্পানিটি সিলেটের জকিগঞ্জে মাত্র ৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৮তম গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করলেও ১৮০ কোটি টাকা খরচ করে ভোলায় ২৯তম গ্যাসকূপ খনন করা হয়েছে রাশিয়ান কোম্পানি গ্যাজপ্রমকে দিয়ে। এদিকে বাপেক্সের সক্ষমতা ঠেকে আছে মাত্র ১১৩ মিলিয়ন ঘনফুটে।

প্রতিষ্ঠানটির ৫টি রিগের মধ্যে প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে কেনা একটি ব্যবহারের অযোগ্য, আর বাকি চারটির মধ্যে একটি দুর্বল।

কর্মক্ষম ৩টি রিগের একটি ব্যবহারই করেনি আওয়ামী সরকার। পেট্রোবাংলা বলছে, বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়াতে আগামী এক বছরের মধ্যে ভারী ও মাঝারি সক্ষমতার আরও ২টা রিগ কিনবে তারা।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্যাস সংকট মেটাতে গ্যাস উত্তোলনের সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। তবে, বিদেশি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে হলে গভীর কূপ খনন সক্ষমতার রিগ কেনার বিকল্প নেই বলেও মনে করেন তারা।

গ্যাসের সংকট মেটাতে ২০১৮ সালে এলএনজি আমদানিতে বড় চুক্তিতে যায় আওয়ামী সরকার। ফলে ২০২১ সালে ৬ বছরে ৪৬টি নতুন কূপ খননের পরিকল্পনা নেয়া হলেও ৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত খনন করা হয়েছে মাত্র ৯টি। জাতীয় গ্রিডে গ্যাস যুক্ত হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার ৯ শতাংশ, ঘাটতি মিটেছে মাত্র দেড় শতাংশ।

নিউজটি শেয়ার করুন

দুই বছরে দেড়শ গ্যাস কূপ বাড়ানোর উদ্যোগ পেট্রোবাংলার

আপডেট সময় : ০৪:৪৯:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

আমদানির দিকে ঝুঁকতে নিজস্ব গ্যাস উত্তোলন করেনি আওয়ামী লীগ সরকার। দেশীয় কোম্পানি বাপেক্সকে বসিয়ে রেখে কূপ খননের কাজ দেয়া হয়েছে বিদেশি কোম্পানিকে। এবার দুই বছরে দেড়শ গ্যাস উত্তোলন কূপ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে পেট্রোবাংলা। পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে খনন যন্ত্রাংশ কেনার। তবে, আধুনিক যন্ত্রাংশ কেনার বিকল্প নেই বলে মত জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের।

দেশে ১৫টি গ্যাসক্ষেত্রের ৭৩টি কূপ উৎপাদনে রয়েছে। ৩টি নিজস্ব কোম্পানি খনি থেকে দৈনিক গড় উত্তোলন করছে সাড়ে সাতশ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।

বিপরীতে বিদেশি কোম্পানি শেভরন একাই উত্তোলন করছে সাড়ে এগারো শ মিলিয়ন ঘনফুট। বাকি সাড়ে ৭শ মিলিয়ন এলএনজি মিলে মোট সক্ষমতা সাড়ে ২৬শ মিলিয়নের কিছু বেশি। গড় ঘাটতি প্রায় দেড় হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।

পেট্রোবাংলা বলছে, গ্যাস উত্তোলন বাড়াতে ওয়ার্কওভার, উন্নয়ন ও অনুসন্ধান মিলে এবছর তারা কূপ খনন করবে ৫১টি। আর আগামী বছর আরও একশটি কূপ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। খননে গতি আনতে, বাড়ানো হচ্ছে বাপেক্সের সক্ষমতা।

দেশীয় বড় কোম্পানিটি সিলেটের জকিগঞ্জে মাত্র ৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৮তম গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করলেও ১৮০ কোটি টাকা খরচ করে ভোলায় ২৯তম গ্যাসকূপ খনন করা হয়েছে রাশিয়ান কোম্পানি গ্যাজপ্রমকে দিয়ে। এদিকে বাপেক্সের সক্ষমতা ঠেকে আছে মাত্র ১১৩ মিলিয়ন ঘনফুটে।

প্রতিষ্ঠানটির ৫টি রিগের মধ্যে প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে কেনা একটি ব্যবহারের অযোগ্য, আর বাকি চারটির মধ্যে একটি দুর্বল।

কর্মক্ষম ৩টি রিগের একটি ব্যবহারই করেনি আওয়ামী সরকার। পেট্রোবাংলা বলছে, বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়াতে আগামী এক বছরের মধ্যে ভারী ও মাঝারি সক্ষমতার আরও ২টা রিগ কিনবে তারা।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্যাস সংকট মেটাতে গ্যাস উত্তোলনের সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। তবে, বিদেশি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে হলে গভীর কূপ খনন সক্ষমতার রিগ কেনার বিকল্প নেই বলেও মনে করেন তারা।

গ্যাসের সংকট মেটাতে ২০১৮ সালে এলএনজি আমদানিতে বড় চুক্তিতে যায় আওয়ামী সরকার। ফলে ২০২১ সালে ৬ বছরে ৪৬টি নতুন কূপ খননের পরিকল্পনা নেয়া হলেও ৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত খনন করা হয়েছে মাত্র ৯টি। জাতীয় গ্রিডে গ্যাস যুক্ত হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার ৯ শতাংশ, ঘাটতি মিটেছে মাত্র দেড় শতাংশ।