ব্রাজিলকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিল আর্জেন্টিনা

- আপডেট সময় : ১২:৫৬:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ মার্চ ২০২৫
- / ৩৪৬ বার পড়া হয়েছে

মাঠে সেভাবে খুঁজে পাওয়া গেল না ভিনিসিউস-রদ্রিগোকে। মাঝেমধ্যে রাফিনিয়াকে কয়েক ঝলক দেখা গেল। সারা মাঠ জুড়ে ফেকাসে হয়ে রইল ব্রাজিল। তাদের বিপরীতে ছিল আর্জেন্টিনা, তারা চোট নিয়ে খেলেও অত্যাধিক আত্মবিশ্বাসী পারফরমেন্স করে সকলকে তাগ লাগিয়ে দিল। পুরোটা সময় লিওনেল স্কালোনির দল এমন খেললো যে তারা তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের উড়িয়ে দিল।
বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্তালে বুধবার সকালে ৪-১ গোলে জিতেছে স্বাগতিকরা। চার গোলদাতারা হলেন- হুলিয়ান আলভারেস, এনসো ফের্নান্দেস, আলেক্সিস মাক আলিস্তের ও জুলিয়ানো সিমেওনে। এখানে বলে রাখা ভালো, চার দিন আগে উরুগুয়ের বিপক্ষে জিততে কষ্ট হলেও, এইবারে ঘরের মাঠে আরও বড় চ্যালেঞ্জ নিয়ে নেমে হেসেখেলেই জয় তুলে নিল স্কালোনির দল।
আর্জেন্টিনা মাঠে নামার আগেই বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়ার মতো একটা বড় সুখবর পায়। এদিনেই আগের ম্যাচে উরুগুয়ের বিপক্ষে খেলে বলিভিয়া, শূন্য গোলে তারা ড্র করলে পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষ ছয়ের জায়গা পাকা হয়ে যায়।
আর্জেন্টিনা পুরো ম্যাচে প্রায় ৫৫ শতাংশ সময় সময় ধরে বলকে নিজেদের দখলে রেখে, তাদের জয়কে নিশ্চিত করল। তারা একে একে ১২টি শট নিয়ে সাতটি গোল করে। এই জায়গায় দাঁড়িয়ে ব্রাজিল মোটে তিনটি শট নিয়ে একটি গোল করে। ১৪ ম্যাচে ১০ জয় ও ১ ড্রয়ে আর্জেন্টিনার পয়েন্ট ৩১।
আরেক ম্যাচে চিলির সঙ্গে খেলে তারা শূন্য গোলে ড্র করে একুয়েডর ২৩ পয়েন্ট নিয়ে আছে দ্বিতীয় স্থানে। সমানভাবে ২১ পয়েন্ট নিয়ে পরের তিনটি স্থানে আছে যথাক্রমে উরুগুয়ে, ব্রাজিল এবং প্যারাগুয়ে।
চেনা লড়াইয়ের ময়দানে ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে প্রথমবার সুযোগ পেয়েই আর্জেন্টিনা মরিয়া হয়ে ওঠে। তিয়াগো আলমাদার তাদের বাড়ানো বল বক্সে পেয়েও একপ্রকার হারাতে বসেছিলেন আলভারেস; তবে তাদের ভাগ্য সহায় হয়। দুই ডিফেন্ডার গিয়ের্মে আরানা ও মুরিলোর মাঝখান দিয়ে এগোনোর পথেই একটুর জন্য আরানার পায়ে লেগে আসা বল নিচু শটে জালে পাঠান ম্যানচেস্টার সিটি তারকারা।
ওই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই দ্বিতীয় গোল হজম করতে হল ব্রাজিলকে। নিজেদের সীমানা থেকে ছোট ছোট পাসে আক্রমণে উঠে নাহুয়েল মোলিনা ডান দিক থেকে ব্রাজিলের বক্সে পাস বাড়ান, কিন্তু মাঝপথেই প্রতিপক্ষের একজনের পায়ে লেগে আসা বল ছয় গজ বক্সে পেয়ে জালের দিকে এগিয়ে দিতে ভুলে যাননি চেলসি মিডফিল্ডার এনসো ফের্নান্দেস।
শুরু থেকে বল দখলে রেখেও প্রথমদিকে ব্রাজিল অনেকটাই পিছিয়ে থাকে। এই পিছিয়ে থাকা ব্রাজিল ২৬তম মিনিটে প্রথম শট দিয়েই সাফল্য তার মুষ্টিবদ্ধ করে নেয়। গোলটির পেছনে অবশ্য পুরো অবদান ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর। ডি-বক্সের বাইরে বল অনেক্ষণ পায়ে রাখেন এই ডিফেন্ডার, তবে সেই সুযোগে ছুটে গিয়ে তার থেকে বল কেড়ে নিয়ে নিচু শটে গোলটি করেন উলভসের ফরোয়ার্ড মাথেউস কুইয়া।
দীর্ঘদিন ধরে ব্রাজিল তাদের ফর্মে ছিল না। তারা তাদের এই অনবদ্য একটা গোল করে সকলকে তাগ লাগিয়ে দিল। তবে পুরো ম্যাচে তারা একটাই মাত্র শট নিতে পারে।
৩৬তম মিনিটে আবার দুই গোলে আবার এগিয়ে যেতে পারতো আর্জেন্টিনা। তবে এই যাত্রায় আলমাদার জোরাল শটে অসাধারণ নৈপুণ্যের সঙ্গে ঝাঁপিয়ে আটকান তাদের গোলরক্ষক বেন্তো।
যদিও পরের মিনিটেই স্কোরলাইন ৩-১ করে স্বাগতিকরা ও এনসো ফের্নান্দেসের দারুণ ক্রস বক্সে পেয়ে চমৎকার ভলিতে আগুয়ান গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে চলে যান মাক আলিস্তের।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে একসঙ্গে তিনটি বড় পরিবর্তন করেন ব্রাজিল কোচ; মুরিলো, জোয়েলিনতন ও রদ্রিগোকে তুলে নিয়ে মাঠে নামান ওরচিজ, জোয়াও গোমেজ ও এন্দ্রিককে।
তবে এতে ব্রাজিলের সাদামাটা পারফরম্যান্সে তেমন কোনও ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বরং আর্জেন্টিনাই বারবার আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছিল। ৪৭তম মিনিটে আলভারেসের হাওয়ায় ভাসিয়ে দেওয়া শটে বল ক্রসবারকে ঘেঁষে জালে জড়াতে যাচ্ছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে একহাত দিয়ে ঠেকিয়ে ব্যবধান বাড়তে দেননি বেন্তো।
৬৮তম মিনিটে মিডফিল্ডার আলমাদাকে তুলে ফরোয়ার্ড জুলিয়ানো সিমেওনেকে নামান কোচ স্কালোনি এবং মাঠে নামার তিন মিনিটের মধ্যে চমত্কার গোল উপহার দেন আতলেতিকো মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড; নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর পাস বক্সে পেয়ে কোনাকুনি শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন সিমেওনে।
অবশেষে ছয় মিনিট পর দারুণ এক গোলের সম্ভাবনা জাগিয়েও হতাশ হতে হয় রাফিনিয়াকে। অনেক দূর থেকে নেওয়া তার ফ্রি কিকে বল ক্রসবারের একেবারে ওপরের অংশে লাগে। বাকি সময়ে আর কোনও সম্ভাবনাই জাগাতে পারেনি তারা।
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এই নিয়ে ব্রাজিলের জয় খরা বেড়ে হল পাঁচটি ম্যাচ, এর মধ্যে চারটিতেই তারা হেরেছে। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা সবশেষ জিতেছিল সেই ২০১৯ সালের কোপা আমেরিকায়।