ঈদের আনন্দে নতুন মাত্রা: জামাতের পর হবে মেলা-মিছিল

- আপডেট সময় : ০৩:১২:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ মার্চ ২০২৫
- / ৩৫০ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় ঈদগাহ ছাড়াও এবার পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে হবে ঈদের জামাত। মুঘল আমলের মতো ঈদের উৎসবকে আড়ম্বরপূর্ণ করতে জামাতের পর হবে ঈদ মেলা, হবে ঈদ মিছিলও। অতিথি আপ্যায়নে থাকবে মিষ্টিসহ নানা খাবারের আয়োজন। ঈদের জামায়াতের প্রস্তুতি কতটা, আবহাওয়া-ই বা কেমন থাকবে?
ঈদের খুশির আমেজের অন্যতম ধাপ নতুন জামা জুতো পরে ঈদগাহে যাওয়া। পরিবার স্বজনের সঙ্গে নামাজ আদায় শেষে কোলাকুলি আর কুশলবিনিময়ের সঙ্গে কাটে ঈদগাহের আয়োজন। তবে এ উপমহাদেশের যে ঈদের আয়োজন, যা ছিল আরও আমেজের, সঙ্গে মহাআড়ম্ভে উদযাপনেরও। এবার সেই আমেজ ফিরিয়ে আনতে ঈদুল ফিতর ঘিরে নেয়া হয়েছে বাড়তি পরিকল্পনা।
আঁগারগাও পুরাতন বাণিজ্য মেলা মাঠ, যেখানে এবার প্রথমবারের মতো আয়োজন হবে পবিত্র ইদুল ফিতরের নামাজ। এসব ঘিরে প্রস্তুতি চলছে জোরেসোরে। ইতোমধ্যে নামাজের স্থানে সামিয়ানা টানানো হয়েছে, বালু মাটিতে দেয়া হচ্ছে পানি, সমান করা হচ্ছে মাটি। বসানো হচ্ছে ফ্যান, লাইটও। সামিয়ানার অংশের বাইরেও মুসল্লি বাড়লে যেন ঈদের নামাজ পড়তে পারে তার জন্য নেয়া হচ্ছে ব্যবস্থা।
মাঠের ঈদের জামাতের দায়িত্বে থাকা একজন ব্যক্তি বলেন, ‘সামিয়ানার সামনে আমরা খালি জায়গা রাখছি। যদি উপস্থিত মুসল্লির সংখ্যা বেড়ে যায়, তাহলে আলাদা নামাজের যা যা ব্যবস্থা করা যায় সবই আমরা ব্যবস্থা করছি।’
শুধু নামাজই নয়, ঠিক তার পাশেই বসবে ঈদ মেলা। নামাজের পরপর মুসল্লিরা বের হবেন ঈদ মিছিলে। অতিথি আপ্যায়নে থাকবে মিষ্টিসহ নানা খাবারের আয়োজন। এমন আয়োজন কেবল মুঘল আমলে হতো। তেমনি ঈদের ঐতিহ্যই ফিরিয়ে আনতেই এমন উদ্যোগ বলে জানালেন ঢাকা উত্তর সিটির এই কর্মকর্তা।
ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাঈদ মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘আনন্দ মিছিলে আমাদের ঘোড়া থাকবে, ঘোড়ার গাড়ি থাকবে, বাদ্যযন্ত্র থাকবে, হাতি থাকবে। যেকোনো মেলায় একটা দোকান দিতে গেলে যে পয়সা দিতে হয়, সেটা এখানে দিতে হচ্ছে না। অনেক বাচ্চারাও প্রতম দিনে অভিভাবকের সঙ্গে আসতে পারে না। তাদের জন্যও এই মেলা দুইদিনব্যাপী চলবে। শুধু দিনের বেলা চলবে, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা বা ৬টা পর্যন্ত।’
উত্তর সিটি করপোরেশনের বাসিন্দাদের থেকে জাতীয় ঈদগাহ কিছুটা দূরে হওয়ায় অনেকেই নামাজ আদায় করতেন স্থানীয় মসজিদে। তবে এবার কাছাকাছি হওয়ায় ডিএনসিসির বাসিন্দারা খুশি।
স্থানীয়ভাবে বসবাসকারীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘এবার আশা করি ঈদটা ভালো হবে। অনেক লোকজন হবে, মিছিল হবে। আশা করি ঢাকাতে ঈদটা ভালো হবে।’
অন্যদিকে জাতীয় ঈদগাহেও চলছে জোর প্রস্তুতি। এখানে প্রস্তুতির প্রায় ৮০ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। ফ্যান, লাইটসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থারও অধিকাংশ সরঞ্জাম বসানো শেষ। এখানে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারবেন। ঈদ জামায়াত নির্বিঘ্ন করতে প্রায় ২০টি সংস্থা একসঙ্গে কাজ করছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী (অঞ্চল-১) সাইফুল ইসলাম জয় বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিসের সাহায্য নিয়ে কোথাও পানি লিক করে কিনা সেটা পরীক্ষা করে নিবো। ফাইনাল একবার চেক করবো, ভিভিআইপি নিয়ে উনাদের কোনো আলাদা চাওয়া আছে কি না, সেগুলো আমরা দেখবো।’
ঈদের দিনের আবহাওয়া থাকবে রৌদ্রোজ্জ্বল। তবে কালবৈশাখীর এই সময়ে যেকোনো সময় বৃষ্টির সম্ভাবনাও দেখছেন আবহাওয়াবিদরা।
আবহাওয়াবিদ শাহিনুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদের দিন বা ঈদের কাছাকাছি সময়ে সারাদেশে তাপপ্রবাহ না থাকলেও ঢাকা বিভাগে বা তার আশেপাশে এলাকায় তাপপ্রবাহ থাকার সম্ভাবনা আছে। কিছুদিন বৃষ্টির সম্ভাবনা আপাতত নেই। তারপরও যেহেতু কালবৈশাখীর সময় আমাদের। এটা যখন-তখন হতে পারে।’
প্রতিকূল আবহাওয়া হলে জাতীয় ঈদগাহের পরিবর্তে বায়তুল মোকাররমে হবে ঈদ জামাত।