ভূমিকম্পে মিয়ানমারে নিহতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে

- আপডেট সময় : ০৪:১৮:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ মার্চ ২০২৫
- / ৩৫৬ বার পড়া হয়েছে

গেল একশ’ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্পে মিয়ানমারে নিহতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। আহত প্রায় দুই হাজার। মৃতের সংখ্যা ১০ হাজারে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সংস্থা ইউএসজিএসের। মিয়ানমারের এই সংকটে মানবিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এদিকে মিয়ানমারের ভূমিকম্পে পাশের দেশ থাইল্যান্ডে নির্মাণাধীন ভবন ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনও আটকা পড়ে আছেন শতাধিক শ্রমিক। দক্ষিণ এশিয়ার এই বিপর্যয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে জাতিসংঘ।
৯১ বছরের পুরনো সেতু, ছোটবড় অসংখ্য স্থাপনা, এমনকি শান্তির বার্তা ছড়ানো প্যাগোডা- প্রকৃতির নির্মমতা থেকে রেহাই পায়নি কোনো কিছুই।
গতকাল (শুক্রবার, ২৮ মার্চ) দুপুরে কেন্দ্রীয় অঞ্চলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে লন্ডভন্ড দক্ষিণ এশিয়ার দেশ মিয়ানমার। জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং জানান, শক্তিশালী ঐ কম্পনে নেপিদো, সাইগাইং, মান্দালয়সহ পাঁচটি শহরে ভবন ধসে ৭শ’রও বেশি মানুষ আহত হয়েছে।
জান্তা সরকার হতাহতের সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে জানালেও যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক সংস্থা, ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভের আশঙ্কা, ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়াতে পারে।
সংস্থাটি আরও বলেছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্র মিয়ানমারের মান্দালয় শহর থেকে প্রায় ১৭.২ কিলোমিটার দূরে। সাত মাত্রার ভূমিকম্পের ১২ মিনিট পর ৬ দশমিক ৪ মাত্রার একটি পরাঘাত বা আফটার শক হয়। এই আফটার শকে পরে মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলে আরও ১৩টি আফটার শক আঘাত হানে। এর জেরে দেশটির ছয়টি প্রদেশ মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানাচ্ছে ইউএসজিএস। আজ (শনিবার, ২৯ মার্চ) সকাল থেকে আবারও শুরু হয়েছে উদ্ধার অভিযান।
ভূমিকম্পের পর মিয়ানমারে মার্কিন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেছেন ট্রাম্প। সহায়তার আশ্বাস দিয়ে বলেছেন মিয়ানমারের জনগণের পাশে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র। আর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে যোগাযোগ করে সম্মিলিতভাবে মিয়ানমারের জন্য সহায়তা পাঠাবে জাতিসংঘ।
এছাড়া দেশটিতে ১৫ টন সমপরিমাণ ত্রাণ পাঠাচ্ছে ভারত। উদ্ধার অভিযানে যোগ দিয়ে মিয়ানমারে পৌঁছেছে চীনের বিশেষ দল।
এদিকে মিয়ানমারের ভূমিকম্পে প্রতিবেশি দেশ থাইল্যান্ডের ব্যাংককে নির্মাণাধীন ভবন ধসে আটকা পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে শনিবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে উদ্ধার অভিযান। এখনও পর্যন্ত ভবনের নিচে শতাধিক শ্রমিক আটকে আছে বলে জানিয়েছে ব্যাংকক মেট্রোপলিটন অ্যাডিমিনিস্ট্রেশন। থাই সরকার জানিয়েছে, ভূমিকম্পের সময় ঐ ভবনে ৩২০ জন কর্মী থাকার কথা। বিবিসির তথ্য বলছে, শুক্রবারের ভূমিকম্পে থাইল্যান্ডের যে কয়েকটি ভবন ধসের খবর পাওয়া গেছে তার সবগুলোই নির্মাণাধীন ছিল।