মাওবাদী বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বিজেপির কঠোর অবস্থান

- আপডেট সময় : ০২:০০:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ মে ২০২৫
- / ৩৭৫ বার পড়া হয়েছে

ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যের বহুমূল্য খনিজ সম্পদ রক্ষা করতে মাওবাদী বিদ্রোহীদের পেছনে উঠে পড়ে লেগেছে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার। সম্প্রতি কাতার ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ভারত সরকার মনে করে, মাওবাদীদের দমন করা ছাড়া এই অঞ্চলের খনিজ সম্পদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা সম্ভব না। পাশাপাশি, মাওবাদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভোট ব্যাংক ও জনসমর্থনের মতো বিষয়ও।
ভারতের ছত্তিশগড়ে মাওবাদী বিদ্রোহীদের দমনে উঠে পড়ে লেগেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বুধবার ছত্তিশগড়ের নারায়ণপুর জেলার গভীর বনাঞ্চলে মাওবাদী বিদ্রোহীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনায় প্রাণ গেছে অন্তত ২৭ মাওবাদীর।
গেল কয়েক দশক ধরে চলা মাওবাদীদের বিদ্রোহে তাদের বহু নেতা, সেনাসদস্য এবং বেসামরিক নাগরিকসহ ১২ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ গেছে। যদিও বিদ্রোহীদের দাবি, ভারতের মধ্যাঞ্চলীয় রাজ্য ছত্তিশগড়ের প্রান্তিক আদিবাসীদের অধিকারের রক্ষায় বছরের পর বছর ধরে সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে তারা।
২০২৬ সালের মার্চ নাগাদ দেশ থেকে মাওবাদী বিদ্রোহ পুরোপুরি দমনের অঙ্গীকার করেছে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার। এরমধ্যে কেবল চলতি বছরই দুইশ’র বেশি মাওবাদী বিদ্রোহী হত্যা করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ২০২৪ এ এই সংখ্যা ছিল ২২৩। যেখানে ২০২০ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে প্রাণ গেছে ১৪১ মাওবাদীর। কাজেই মোদি সরকার যে মাওবাদী উৎখাতের ম্যান্ডেট নিয়ে তৎপরতা চালাচ্ছে তা এই পরিসংখ্যানই বলে দেয়।
এছাড়া, কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার দাবি, মাওবাদীরা একাধিকবার অস্ত্রবিরতির প্রস্তাব দিলেও তা আমলে নিচ্ছে না ভারত সরকার। প্রতিবেদনে আরও বলা হচ্ছে, মাওবাদীদের সঙ্গে ভারত সরকারের লড়াইয়ের পেছনে আছে খনিজ সম্পদের বিপুল ভাণ্ডার।
মাওবাদী নেতাদের দাবি, প্রাকৃতিক সম্পদের শোষণ, বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানকে খনির ইজারা দেয়া ও স্থানীয় আদিবাসীদের উৎখাত করায় সরকারের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নিয়েছে বিদ্রোহীরা। মাইনিং এর কারণে স্থানীয় পরিবেশের যেমন বিপর্যয় হয়েছে তেমনি ঘরছাড়া হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ।
কয়লা, বক্সাইট, লৌহ আকরিক, টিন, গ্রাফাইট, চুনাপাথর, ঢালাই বালিসহ অপ্রধান খনিজ পদার্থ দিয়ে ঠাসা এই ছত্তিশগড় রাজ্য। ২০২২ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত ১১৭টি খনি থেকে উত্তোলন করা মোট খনিজ উপাদানের বাজার মূল্য ছিল ১৯৪ মিলিয়ন ডলার। কাজেই এই পরিসংখ্যান থেকে অনুমান করা যায়, রাজ্যটি নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা সরকারের জন্য কেন এত জরুরি হয়ে পড়েছে।